কুয়াশার চাদরে

123

শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন। বঙ্গজ ঋতুতে শীত একটা বড় ভূমিকা পালন করে। এই শীতের আমেজ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শীত আতঙ্কও। তবুও শীত শেষেই আসবে বসন্ত। ফুলে ফলে পল্লবিত হবে মানুষের হৃদয়। এই শীতে মানুষ যেন খুঁজে পায় এক অন্য অনুভূতি। শীতের আমেজে রকমারি খাওয়া দাওয়া, রকমারি পোশাক যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শ্লথ হয়ে যাওয়া কাজের গতিও। সব মিলিয়ে শীত যেন উপভোগেরই।

বছর শেষে ঠাণ্ডার প্রকোপ থাকে বেশী।যেন জাঁকিয়ে শীত। কুয়াশা ভেদ করে বেরাতে যাওয়া থেকে শুরু করে বনভোজন। আহারের নানা বাহার এই সময়েই পেয়ে থাকে এই বাংলার মানুষ। বর্ষবরণের প্রস্তুতি হয় এই সময়েই। সব মিলিয়ে শীত যেন উৎসবের মরসুম। এই শীতে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন “শীতের গীত”। আজ তার দ্বিতীয় দিন, এই পর্বে লিখেছেন কবি অঞ্জনা দে ভৌমিক।

অঞ্জনা দে ভৌমিক

হেমন্তের সোনালী ডানায় ভর করে হিমেল হাওয়া সাথে নিয়ে কুয়াশার রহস্যময় চাদরে জড়িয়ে আসে  শীত। কুয়াশা কন্যারাও নির্জন  মাঠে  নদীর  কুলে পাহাড়ের গায়ে ছাউনি ফেলে।  বিবর্ণ হলুদ পাতারা চুপিসারে খসে পড়ে পথের ধুলোয়। হীম শীতল বাতাসে  উত্তরের পথ ধরে ঘন কুয়াশায় উত্তরীয় গায়ে, পিঠা পুলি খেজুরের রসের মিষ্টি ঘ্রাণে বাংলার ঘরে ঘরে শীতের বরণ।গাছে গাছে পাখিদের কলকাকলি।

মাঠে মাঠে সরষের হলুদ ফুল মন কেড়ে নেয় বাঙালির।  কুয়াশার ঘন জাল সরিয়ে যখন মিষ্টি রোদ বারান্দায় দাঁড়িয়ে,  কবিমন তখন গেয়ে ওঠে, “পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয় ছুটে আয়” গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া কুয়াশার  শব্দ কবিমনকে বিমোহিত করে তোলে। কবিমন ছুটে যায় তেপান্তরের মাঠে। খুশিতে গেয়ে উঠে ” মেঘ ছিঁড়ে ধিরে ধিরে সূর্যের  সুখোরোদে রোদে ভর দেয় জীবনের সুখ”।

শীতের হিমেল হাওয়ায় যখন জড়সড় প্রকৃতি তারপরও আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে শীতের রঙবাহারি ফুল। কুয়াশার সাদা চাদর ভেদ করে চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা কসমস, ডালিয়া জানিয়ে দেয় তাদের সৌন্দর্যের উপস্থিতি।  গুটি গুটি পায়ে আসে শীত। আর গাঁদা তখন হলুদ পাপড়ির থোকার মধ্যে খয়েরি রঙের পাপড়ি মেলে ধরে।

শীত মানেই হরেকরকম ফুল, ফল, সব্জির বাহার। শীত মানেই বাঙালির পিকনিক,  বাঙালির ভ্রমণ।  কনকনে ঠান্ডায় পিঠে, পায়েস, খেজুরের রসে,শীতকে আরো মিষ্টি করে তোলে। ঋতুর এই আশীর্বাদ কি সবার জন্যই এত মিষ্টি? 

হাড় কাঁপা শীত কষ্ট দেয় দরিদ্র মানুষদের।  ফুটপাতে হাজার হাজার শিশু  খালি গায়ে ধুলো ময়লা জড়িয়ে থাকে। শীতের সাথে যুদ্ধ করে তারা রাত পার করে। তারা অপেক্ষা করে কখন বেলা বাড়বে কখন তারা একটু রোদের দেখা পাবে! শীতের ভোরে ফিনফিনে পাতলা ধূসর কুয়াশা যতই নামুক আঙিনায়।  অপেক্ষা করে,  ঐ দেখো ভোরের রোদ ডাকছে তোমায়। তবুও প্রকৃতির আশীর্বাদ বা অভিশাপ সবটাই মাথা পেতে নিতে পারি আমরা।

তবুও শীত আমাদের প্রিয়। ভালোবাসি তাকে আমরা। ক্লান্তি ,  হতাশা,  বেদনা,  কষ্ট সব ঢেকে দিক ফুলে ফলে নানা সমারোহে। বারান্দা, করিডোর, আঙিনা, বাগান সেজে উঠুক শীতের মরশুমে।