দ্বিতীয়ায় নিয়ম মেনে বড় দেবী দর্শন করলেন জেলা শাসক

22

কোচবিহার ৩০ সেপ্টেম্বরঃ ‘সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে’। আজও রাজ নিয়মে পূজিত হন কোচবিহারের বড় দেবী। ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে পূজিত হন তিনি। এক অন্য প্রকৃতি,  ভিন্ন নিয়মে এই দেবীর আরধানা হয়ে আসছে আজও। প্রতিপদ ঘট স্থাপনের পর  দেবী পক্ষের দ্বিতীয়ায় পূর্ণ সাজে সজ্জিতা  হয়েছেন দেবী । এইদিন মাতৃ মুখ দর্শন করেন কোচবিহারের জেলা শাসক কৌশিক সাহা । দেবী দর্শনের এই কর্মসূচীতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল, কোচবিহার দেবর্ত্র ট্রাষ্ট বোর্ডের সচিব সুপর্ণা বিশ্বাস প্রমুখ।

শ্রাবণের শুক্লা অষ্টমীতে ময়নাকাঠের পুজোর মধ্য দিয়ে এই দেবীর আরধানা শুরু হয়। এরপর এক মাস সেই অমৃত বৃক্ষ মদন মোহন বাড়িতে অবস্থান কোরে  রাধা অষ্টমীতে ওই ময়নাকাঠ এসে পৌঁছায় দেবী বাড়িতে। এরপর সেই ময়না কাঠের ওপরে তৈরি হয় দেবী মূর্তি । তুফানগঞ্জের চামটা এলাকায় বিশেষ মাটিতে এই মূর্তি গড়ে ওঠে।  দেবীর এখানে ভিন্ন রূপ। এখানে দেবীর সাথে নেই তাঁর পুত্র-কন্যা লক্ষী, সরস্বতী, কার্ত্তিক, গণেশ। রয়েছে সখী জয়া,বিজয়া। কথিত আছে স্বপ্না দর্শনে এই মূর্তি কল্পনা করেছিলেন মহারাজা। বংশ পরম্পরায় এই মূর্তি নির্মাণ করে আসছেন প্রভাত চিত্রকর।

বাংলার প্রাচীন পুজোর গুলির মধ্যে কোচবিহার বড় দেবী পূজা অন্যতম। কথিত আছে কোচবিহারের মহারাজা বিশ্ব সিংহ ময়নাকাঠের গোঁজে এই পূজার সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে মহারাজা নর নারায়ণ মূর্তি গড়ে এই পূজার শুরু করেন। ষোড়শ শতকে এই পূজার সূচনা হয় বলে  জানা যায়।