বাংলার এই গ্রামে বিজয়া থেকে শুরু হয় আসল পূজো

211

তুষার কান্তি বিশ্বাস, উত্তর দিনাজপুরঃ বিজয়া দশমীতে এক দিকে যখন বাংলা জুড়ে দশভূজার বিদায়ে বিষাদের ছায়া, তখন ঠিক উলটো ছবি ধরা পড়ল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহর থেকে অনতিদূরে খাদিমপুর গ্রামে। দশমীতেই শুরু হয় এখানকার দুর্গাপুজো। পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন খাদিমপুর গ্রামের আট থেকে আশি সকলেই। পুজোর চারদিন মেলাও বসে। এলাকার বাসিন্দারা এই পুজোকেই দূর্গাপুজো হিসেবে উদযাপন করেন।

রায়গঞ্জ থানার ১৪ নম্বর কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের খাদিমপুর গ্রাম নতুন করে মেতে উঠেছে শারদীয়া পুজোর আনন্দে। তবে এখানে দেবী দুর্গাকে ‘বলাইচণ্ডী’ রূপে পুজো করা হয়ে থাকে। এখানে দেবী দশভূজার বদলে চতুর্ভুজা। দেবীর চার হাতে অস্ত্র থাকলেও এখানে দেবীর পদতলে নেই মহিষাসুর। তবে এখানেও দেবী কার্তিক গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীকে নিয়ে সপরিবারেই পূজিতা হন।

  খাদিমপুরের বাসিন্দা তথা পুজো কমিটির কর্মকর্তা সুরেন্দ্র নাথ বর্মন জানালেন, কত বছরের পুরানো এই পুজো তা কেউই বলতে পারেনা। আনুমানিক স্বাধীনতার আগে থেকেই এই পূজো শুরু হয়। একই নিয়মে দশমীর দিনই শুরু হয় এখানে বালাইচন্ডীরূপী দেবী দূর্গার পুজা। দশমীর রাতে শুরু হওয়া পুজো চলবে চারদিন। পুজোর পাশাপাশি পুজোকে ঘিরে বসে মেলা। পুজোর সময় গ্রামের প্রত্যেকে নিরামিষ আহার গ্রহন করেন।দশমী দিন বিসর্জনের পর আমিষ খান গ্রামবাসীরা। আর এই বালাইচন্ডীরূপী দূর্গাপুজোই খাদিমপুর গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে আসল পুজো।

এই পুজোকে কেন্দ্র করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন বাসিন্দারা। এখানকার  বালাইচন্ডীরূপী দেবী দূর্গা খুবই জাগ্রত মেনে বহূ দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন খাদিমপুরে। শারদীয়া উৎসব যেখানে শেষ হয়ে বিষাদের সুর বেজে উঠেছে আর তখনই রায়গঞ্জ শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে খাদিমপুর গ্রামে আগমনীর আগমনে আনন্দে মেতে উঠেছে।