ট্রাম্পের চাপে পড়েই কি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধের রফতানির সম্মতি দিল ভারত

510

ওয়েব ডেস্ক, ৭ এপ্রিলঃ শেষমেষ মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করতেই হল ভারত সরকারকে। সম্প্রতি তিনি সৌজন্যবোধ এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ককে বেমালুম ভুলে গিয়ে রীতিমতো হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন ভারত সরকার যদি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধের রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তোলে তাহলে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। আর তারপরই ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই ওষুধের রফতানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তা কিছুটা শিথিল করা হবে।

সূত্রের খবর, ভারত সরকার ঠিক করেছে দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে বাড়তি ওষুধ বিদেশে পাঠানো হবে। এই সিদ্ধান্তে নিশ্চিত ভাবেই স্বস্তি পাবে সেই দেশগুলি।

বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পরিমাণে পড়শি দেশদের এই দুটি ড্রাগ দেওয়া হবে। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন উত্পাদনে বিশ্বের শীর্ষে ভারত। ২৫ মার্চ প্রথমবার হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বাইরে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। এরপর চলতি মাসের চার তারিখ আরও নিয়ম কড়া করা হয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো মোদীকে ফোন করে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বিদেশে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানান। ভারত কথা না শুনলে, আমেরিকা প্রত্যাঘাত করবে, এই হুঁশিয়ারিও দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভারত নিষেধাজ্ঞা ওঠালেও বিদেশে ঢালাও ভাবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামল পাঠানো হবে না, তা সাফ করে দিয়েছে নিউ দিল্লি।

যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মানবিকতার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  যে সমস্ত দেশে করোনা সংক্রমনের জেরে মহামারী দেখা দিয়েছে। সেইসব দেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিকেও এই ঔষধ উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

তবে এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে করোনার জেরে তাতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি যেনতেন প্রকারেণ চেয়েছিলেন এই পরিস্থিতি উন্নতি হোক। এমতাবস্থায় ভারতের এই সাহায্য আদতে মার্কিন মুলুকে কোনও আশার আলো জ্বালাতে পারে কিনা, সেটাই দেখার।