মুচলেকা দিয়ে মুক্তি কাশ্মীরি নেতা নেত্রীদের,বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার খর্বের অভিযোগ

199

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ অক্টোবর: কাশ্মীরের নেতাদের ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেতা-নেত্রীদের আটক করে রাখা হয়েছে। এবার তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে মুখ বন্ধ রাখার মুচলেকা দিয়ে। জানা গেছে, এক বছর মুখ বন্ধ রাখার মুচলেকা দিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে দিয়ে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত দু’টি অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। উপত্যকার শান্তি  ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যাপকভাবে ধরপাকড় ও রাজ্যের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি, ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ ও ওমর আব্দুল্লাহসহ অনেক নেতাকে গৃহবন্দি ও আটক করে রাখা হয়।

সেই আটক নেতাদের এবার নির্দিষ্ট বয়ানে মুচলেকা ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দিলে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুচলেকার বয়ানে বলতে হচ্ছে, ‘এক বছরের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে আমি কোনও বিবৃতি প্রকাশ করব না, কোনও সভা-জমায়েতে বক্তব্য পেশ করব না এবং কোনও মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করব না। কারণ,তা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।’

মুচলেকার অন্যতম শর্ত, ১০ হাজার টাকা অগ্রিম হিসেবে জমা দিতে হবে এবং কোনও শর্ত ভঙ্গ হলে আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে।

৩৭০ ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে এবং সেখানকার অবরুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ১৫ অক্টোবর নারীদের এক প্রতিবাদ-বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহর বোন সুরাইয়া এবং মেয়ে সাফিয়া আব্দুল্লাহ খান। তাঁরা এসময় এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কাশ্মীরের নারীরা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা অপসারণের একতরফা সিদ্ধান্ত ও রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ তাঁরা অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দেয়াসহ গ্রামীণ ও শহর এলাকাকে অসামরিকীকরণের দাবিও জানান।

ওই ঘটনায় পুলিশ সেই সময় সুরাইয়া ও সাফিয়াসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের মুক্তির শর্ত হিসেবেও উল্লেখিত ওই মুচলেকায় সই করানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মৌখিকভাবেও উপত্যকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন বলে তাঁদেরকে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। ওই ঘটনায় বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কাশ্মীরের বেশ কিছু সংগঠনও এনিয়ে সোচ্চার হয়েছে।