সবজিওয়ালার দোকানে লাথি অথবা ইউনিফর্মে যুবতীর লিপিস্টিক, পুলিশই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়

517

রাজ রায়, ২৬ মার্চঃ করোনা সংক্রামক ঠেকাতে সামাজিক দূরত্বই মূল অস্ত্র। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার লকআউট ঘোষণা করেছে। সাধারণ মানুষকে বিশেষ কারন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতে না বলা হয়েছে। দেশের বেশীর ভাগ মানুষ এখন তাই গৃহবন্দী।

কিন্তু কিছু মানুষ অযাথা বাড়ির বাইরে বের হয়ে সমস্যা তৈরি করছে। যাদের শায়েস্তা করতে পথে নেমেছে পুলিশ। এখন স্যোসাল মিডিয়ায় পুলিশের সেই দাবাংগিরির ছবি ভাইরাল। শুধু এই রাজ্যেরই নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের লাঠি নিয়ে মোটর সাইকেলের পিছু ধাওয়া করা, কান ধরে উঠবস করানো, কোথাও কোথাও একটু বেশী সক্রিয় হয়ে সাধারণ সবজি ব্যবসায়ীর দোকান ভেঙে দেওয়ার ছবি এখন ভাইরাল। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। যাঁকে তাঁকে লাঠি নিয়ে তাড়া না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।সাধারণ মানুষ পুলিশের ভুমিকাকে সমর্থন করেও যাচ্ছিলেন। মানুষকে ঘরমুখো করতে এছাড়া নাকি আর উপায় নেই বলে অনেকেই স্যোসাল মিডিয়ায় দাবি করছিলেন।

 কিন্তু হাওড়ার সাকরাইলের ঘটনায় পুলিশের এই দাবাংগিরির প্রশংসায় একটু যেন থমকে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে নেটিজেনদের। অভিযোগ, হাওড়ার সাকরাইলে পুলিশের লাঠির আঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।অনেককেই এখন প্রশ্ন তুলতে দেখা যাচ্ছে ভাইরাসের হাত থেকে মানুষ বাঁচাতে গিয়ে খুন করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে? কেন একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা, যিনি রাস্তার পাশে কয়েক কেজি আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি বিক্রি করে সারা দিনের রুটিরুজির ব্যবস্থা করেন, তাঁর দোকান ভেঙে কেন দেওয়া হল? কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশের ভূমিকায় এমন প্রশ্ন আবার কোন কোন পুলিশ অনুরাগীকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তাঁদের অনেকেই স্যোসাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে লিখেছেন, পুলিশ নিষ্ক্রিয় হলে সবাই যখন রাস্তায় বেড়িয়ে পড়বে, তখন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে কে দায় নেবে? কেউ বলছেন, সব দিকেই মুশকিলে পুলিশ প্রশাসন। কিছু না করলেও দোষ আবার সক্রিয় হলেও দোষ।

না এসবের মধ্যেও বেশ কিছু কাজ নিয়ে পুলিশের শুধু ভূয়সী প্রশংসাই হয়ে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে সমালোচনা করার কোন অবকাশ নেই। যেমন ধরুন মহিলাকে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার জন্য পুলিশের সেই তৎপরতার ভিডিও। নীলরতন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভাই। অস্ত্রপচার করা হবে। চিকিৎসক রক্তের জোগাড় করতে বলেছেন। কিন্তু চারদিকে যখন সব বন্ধ হয়ে রয়েছে, তখন কোথায় যাবেন, রক্ত জোগাড় করতে। তাই শেষে কোলকাতা পুলিশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কর্মরত কয়েকজন পুলিশ কর্মীর দারস্ত হন এক মহিলা। পুলিশ সেই মহিলাকে নিয়ে রক্ত জোগাড় করার উদ্যোগ নেন। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। শুধু তাই নয়, ভবঘুরেদের খুঁজে খুঁজে খাবার ব্যবস্থা করা পুলিশ অয়াধিকারিকের ভিডিও সহ এমন অনেক ভিডিও এবং ছবিতে পুলিশ শুধুমাত্র প্রশংসাই কুড়িয়েছে।

আবার পুলিশের কাজ নিয়ে অন্যরকমের একটি ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে ভিডিওতে বাইরে বের না হওয়ার আবেদন জানাতে পুলিশ কর্মীরা এক মহিলাকে বলতে গেলে সেই মহিলা পুলিশের সাদা পোশাকে তাঁর মুখ ঘষে লিপিস্টকের রং লাগিয়ে দিচ্ছেন। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর ওই মহিলাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।

গোটা বিশ্বে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির মত দেশে মানুষ প্রথম থেকে সতর্ক না হওয়ায় সেখানে ব্যাপক আকার নিয়েছে। আমাদের দেশে সেভাবে যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য এই লকআউট। মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য বলা। আর এর জন্য চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীর পাশাপাশি পুলিশও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। কিছু মানুষ যেমন সরকারি নির্দেশিকা না মেনে এই লকডাউনের মধ্যেও কারন ছাড়াই বাইরে বের হয়ে পড়ছেন, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়েও প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও শুনতে হচ্ছে। আরও হয়ত হবে। কিন্তু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে সকলকেই। এছাড়া আর অন্য কোন পথ খোলা নেই যে।