ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বিশততম জন্ম বার্ষিকী উদ্‌যাপন কোচবিহারে

12

কোচবিহার ২৬ সেপ্টেম্বরঃ ফুল মালা শ্রদ্ধায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বিশততম জন্ম বার্ষিকী পালিত হল কোচবিহার জেলা জুড়ে। বৃহস্পতিবার উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের প্রাণপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবর্ষ উদ্‌যাপন হয় গোটা রাজ্যে।

বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কার আন্দোলনের  পথিকৃত। সামাজিক কুসংস্কার কুপমণ্ডুক চিন্তা ভাবনাকে শাস্ত্র ও যুক্তি দিয়ে  খণ্ডন করতে সচেষ্ট ছিলেন তিনি।শিক্ষায় ধর্মীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে সমাজকে ও শিক্ষাকে আধুনিকতার আলোয় আলোকিত করার কাজে ব্রতী হয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র।

বিদ্যাসাগরের তাঁর কর্ম ও চিন্তা দিয়ে শুধু উনিশ শতকের সমাজকে বদলের পথ দেখাননি, তিনি সুদুরকালের বাংলার সমাজ জীবনের ক্লেদ গ্লানিক মুক্ত করার চিন্তা করে ছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। তাই তিনি কালজয়ী মহামানব। এই কালজয়ী মহামানবের মানবতাবাদী দর্শন, শিক্ষাচিন্তা, সমাজভাবনা, বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদ বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে রাজ্যব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবং তাঁর দেখানো পথে সমাজকে নতুন করে রক্ষা করা ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবর্ষ উদযাপন হয় গোটা বাংলায়।

২৬ সেপ্টেম্বর  বর্ষব্যাপী বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপনের সূচনা হয়  এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এইদিন কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসের সামনে অবস্থিত বিদ্যাসাগরের মূর্তির পাদদেশ থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয় । শেষ হয়  এম.জে.এন. স্টেডিয়ামের সংলগ্ন এলাকায়। ঈশ্বরচন্দ্র  বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবর্ষ উদযাপনের কমিটি এই কর্মসূচী পালন করে।

এছাড়াও ছাত্র সংগঠন ডিএসও কোচবিহার শহরের কাছাড়ি  মোড়ে পালন করে বিদ্যাসাগরের জন্ম জয়ন্তী। পৃথকভাবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বিশততম জন্ম বার্ষিকী উদ্‌যাপন কমিটির পক্ষ থেকে কোচবিহারের শহরে জেলখানা মোড়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এইদিন কোচবিহার জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলিতেও পালিত হয় বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবর্ষ। কোচবিহার সদর বাদেও মাথাভাঙ্গা, দিনহাটা, তুফানগঞ্জ, মেখলিগঞ্জ মহকুমাতেও সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা উদ্যোগে পালিত হয় বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মজয়ন্তী।