কিশোর আবাসনে অগ্নিদগ্ধ ছাত্রকে নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে কোচবিহারে

12

কোচবিহার, ১০ সেপ্টেম্বরঃ কোচবিহারের একটি কিশোর আবাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রহস্য দানা বাঁধছে ক্রমশ। জানা গেছে, ওই অগ্নিকান্ডে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।  সোমবার রাতে ওই কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগের আঙ্গুল উঠছে আশ্রম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কোচবিহার ১ নং ব্লকের ঘুঘুমারিতে অবস্থিত শিশু সেবা ভবন। এই সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত আবাসনে বেশ কিছু কিশোর আবাসিক হিসাবে থাকে। সোমবার রাতে ওই আবাসনে অগ্নিদগ্ধ হয় এক পড়ুয়া। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে কোচবিহারে। অগ্নিদগ্ধ ওই কিশোরকে ভর্তি করা হয় কোচবিহার সরকারী  মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। পরে সেখানেই মৃত্যু হয় তার। এরপর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

কোচবিহার শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গীতা মাহাতোর ছেলে মহাদেব মাহাতো (১৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসনে থাকত। জানা গেছে আবাসনের আর এক কিশোরের ঘড়ি ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে গত ৬ মাস থেকে গোলমাল চলছিল। এই বচসা সোমবার চূড়ান্ত আকার নেয়। পরিবারের অভিযোগ তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় কোতোয়ালী থানায়। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। কিন্তু পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

এদিন মৃত কিশোরের মা গীতা মাহাতো বলেন, আমার ছেলে ওই আবাসনে থাকত। একটি ঘড়ি নিয়ে বচসার জেরে ও আমার এবং ওর বোনের সমদ্ধে কুরুচিরকর মন্তব্য করার প্রতিবাদ কারায় ওই আবাসনের ২ বন্ধু মিলে মিলে আগুন ধরিয়ে দেয় আমার ছেলের শরীরে।

ঘটনা প্রসঙ্গে ওই আবাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মী সান্তুনু দে সরকার বলেন, ওই ঘটনার সময় সে একাই ঘরে ছিল। হঠাৎ করেই ওই কিশোরের ঘরে অগ্নিকান্ড ঘটে। আমরা ছুটে গিয়ে দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

কোচবিহার কোতোয়ালী থানার আই সি সৌম্যজিত রায় জানান, আমরা গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছি, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।