গুয়াহাটির এক তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাজার কিলোমিটার দূরে বসে চেষ্টাকে ব্যর্থ করল কলকাতা পুলিশ

467

ওয়েব ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারিঃ গলায় ফাসি লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা গুয়াহাটিতে। এর প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে বসে এই চেষ্টাকে ব্যর্থ করল কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। কিন্তু কিভাবে? এই প্রশ্ন ঘুরছে সবার মনে।

জানা গেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে তখন বিভিন্ন মামলার তদন্তে ব্যস্ত ছিলেন সাইবার থানার অফিসাররা। হঠাৎ সেই সময়ে আমেরিকা থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের আধিকারিকেরা ফেসবুক থেকে একটি মেল পান, সেখানে জানানো হয় এক তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। এমনকি তা তিনি ফেসবুক লাইভ করছেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ পূর্ব ভারতের আইপি অ্যাড্রেস দেখেই কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

সেই মেল এ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানান, এক তরুণী ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে একটি ভিডিয়ো আপলোড করেছেন। যে ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করতে চলেছেন। ফেসবুকে তরফে পাঠানো ইমেলের পেয়েই সময় নষ্ট না-করে তরুণীর অবস্থান জানতে অনুসন্ধান শুরু করে দেয় সাইবার থানা।

কিন্তু সেই মেল পাওয়ার পর কলকাতা পুলিশের আধিকারিকেরা দেখেন ওই তরুণী কলকাতা নন, গুয়াহাটির বাসিন্দা। এরপর কলকাতা পুলিশের তরফে গুয়াহাটি পুলিশকে তরুণীর আইপি অ্যাড্রেস ও ফোন নাম্বার দেওয়া হয়। আর কলকাতায় বসে চলে ওই ভিডিয়োর নিরীক্ষণ। কতক্ষণে তাঁকে বাঁচানো যাবে।

বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনার প্রহর কাটার পর তরুণী টুলের উপর উঠে গলায় ফাঁসও লাগিয়ে নেন, তখনও চলছে ফেসবুক লাইভ। হতাশ আধিকারিকেরা কার্যত আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। ঠিক তখনই দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে গুয়াহাটি পুলিশের আধিকারিকেরা। এর ফলে বেঁচে যায় ওই তরুণী।

কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বুধবার বলেন, ‘আমরা ফেসবুকের দেওয়া তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখি ওই প্রোফাইলটি এ রাজ্যের কারও নয়। প্রোফাইলের মালিক গুয়াহাটির এক বাসিন্দা এবং আইপি অ্যাড্রেস-এর সূত্র ধরে জানা যায়, মহিলা ওই সময় গুয়াহাটিতেই রয়েছে

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী বেশ কিছুদিন ব্যক্তিগত কারণে অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।খবর পেয়ে পৌঁছন মহিলারও স্বামীও। মহিলার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।