আর্থিক প্রতারণার মামলায় বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে তলব করল কলকাতা পুলিশ

254

কলকাতা, ১৪ অক্টোবরঃ রেলের কমিটিতে সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক প্রতারণার মামলায় মুকুল রায়কে তলব করল কলকাতা পুলিশ। জানা গেছে, ৮০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগের মামলায় সোমবার তাঁকে ঠাকুরপুকুর থানায় হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মুকুল রায় জানান, তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য তাঁকে অষ্টমীর দিন তলব করা হয়েছিল। তবে পুজোয় ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি হাজির হতে পারেন নি।

প্রসঙ্গত, কলকাতার এক নামজাদা ব্যবসায়ী সন্তু গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁকে রেলের স্থায়ী কমিটিতে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য নানা ভাবে বিজেপি নেতা বাবান ঘোষ আশি লক্ষ টাকা নিয়েছিল।  এমনকি রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর রাজত্বকালে এই সন্ত গঙ্গোপাধ্যায়কে বাবান ঘোষ সংসদে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে বাবানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। অভিযোগে মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বাবান বলে লেখা আছে।

এমনকি সন্তু ঘোষ বলেন, এই অভিযুক্ত বাবান প্রতিবার টাকা নেওয়ার সময় মুকুল রায়ের নাম বলে টাকা নিতো। কিন্তু পুরো বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন সন্ত গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত করে পুলিশ এবং তদন্তে মুকুল ঘনিষ্ঠ বাবান ঘোষের নাম উঠে আসে। এর পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনার জেরে মুকুল রায়কে আজ অর্থাৎ দ্বিতীয় বার ডাকা হলো।

এই অভিযোগের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিন চেয়ে মামলাও করেছিলেন পদ্ম শিবিরের ‘চাণক্য’। সেই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়ে দেয়, ৯ নভেম্বর পর্যন্ত কোনও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না মুকুলের বিরুদ্ধে। মুকুল রায় জানান, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে তাঁর আগাম জামিন নেওয়া আছে। তা সত্ত্বেও তাঁকে অষ্টমীর দিন দেখা করতে বলা হয়। কিন্তু পুজোর মধ্যে হাজিরা দিতে যেতে রাজি হননি একদা তৃণমূল সেনাপতি তথা বর্তমান এরাজ্যের দাপুটে নেতা মুকুল রায়। পরে অবশ্য তিনি জানান যে পরবর্তীতে যখনই তাঁকে তলব করা হবে তিনি যাবেন।

আর্থিক প্রতারণা মামলায় ফের এই তলব প্রসঙ্গে মুকুল রায় আরও বলেন, “আমি যেহেতু কোনও অনৈতিক কাজ করি নি, সেহেতু আমাকে যখন যে যেখানে ডাকবে আমি সেখানেই যাব। আমি আগামীকাল দুপুর দুটোয় বেহালার সরশুনা থানায় যাব।” প্রসঙ্গত, এর আগেও বড়বাজারে আর্থিক দুর্নীতির মামলার তদন্ত নিয়ে বিজেপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কলকাতা পুলিশ।