পিংলার সম্প্রীতির ‘নয়া’ গ্রামে সামাজিক সুরক্ষার প্রচারে শ্রম দপ্তরের কর্তারা

20

কার্ত্তিক গুহ, ঝাড়গ্রাম: এ যেন এক সম্প্রীতির অনন্য নজির! গ্রামের সকলে মুসলিম। কিন্তু তাঁদের পটে পূজিত হন হিন্দু দেবদেবীর। হ্যাঁ, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার ‘নয়া’ গ্রামে সামাজিক সুরক্ষার প্রচারে গিয়ে এহেন ঘটনার সাক্ষী থাকলেন জেলার শ্রম দপ্তরের কর্তারা। পটের গান গেয়ে শোনালেন ‘রাণী চিত্রকর’। হিন্দু দেবদেবীর গান।

যদিও গ্রামের সবাই ধর্মে মুসলমান। ‘নয়া’ গ্রামের শিল্পীদের পদবি ‘চিত্রকর’। ৬৫টি মুসলমান পরিবারের বসবাস। পটচিত্রে এঁরা বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি সহ হিন্দু ধর্মের দেবদেবী এবং মানুষের চরিত্র সবকিছুই ফুটিয়ে তোলেন। ইদানিং সাম্প্রতিক বিষয়ও পটচিত্রে উঠে আসছে। ধর্ম এই শিল্পীদের শিল্পসৃষ্টির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এঁরা বহু প্রজন্ম চর্চিত অদ্ভুত ‘সেকুলার’ এই শিল্পের ধারাকে আজও বয়ে নিয়ে চলেছেন। সত্যিই আজকের ভারতবর্ষে এঁদের বড্ড প্রয়োজন।

বাংলার এই প্রাচীন শিল্পে শুধু পট তৈরী নয়, প্রকৃতি থেকে ভেষজ রঙ এবং তুলির নিজস্ব উপায়ে যোগান, ছবি আঁকা, গান বাঁধা এবং সেই গান গেয়ে পট দেখানোর জন‍্য বহুমাত্রিক এবং বহুমুখী দক্ষতার প্রয়োজন হয়। গ্রামের অনেক শিল্পীরা রাষ্ট্রপতি পুরস্কার সহ বিভিন্ন সন্মাননা পেয়েছেন। এঁদের বহু কাজই বিভিন্ন সময় বিদেশে প্রদর্শিত হয়।

পিংলার পটচিত্র এআইএসিএ প্রদত্ত ক্রাফটমার্কও পেয়েছে। বাংলার হস্তশিল্পে পিংলার ‘নয়া’ গ্রাম নতুন দিগন্ত এনেছে দিয়েছে রাজ্যের জন্য। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেপুটি লেবার কমিশনার বিতান দে সহ শ্রম দপ্তরের অফিসাররা গ্রামে গিয়ে সামাজিক সুরক্ষা যোজনার স্কীম বোঝান।