রবিনসন স্ট্রিটে পর্ণশ্রী কাণ্ডের ছায়া, বাবার মৃতদেহের সাথে ৪ দিন কাটালেন ছোট ছেলে

52

ওয়েব ডেস্ক, ৩ জানুয়ারিঃ ফের আরও একবার রবিনসন স্ট্রিট পর্ণশ্রী কাণ্ডের ছায়া। বাবার পচাগলা দেহ ৪ দিন ধরে ঘরের ভিতরে আগলে রাখলেন ছেলে। যদিও পাঁচদিনের দিন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ছোট ছেলে বাবার দেহ ফেলেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। এর আগেও ওই ব্যক্তি বাড়ি থেকে পালিয়েছেন বলে জেনেছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রানুযায়ী, বেহালার বাসিন্দা মধ্যবয়সি অজিতকুমার ঘোষ তাঁর বাবার দেহ ঘরে রেখে পাঁচদিন ধরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। অথচ, বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে থাকতেন তাঁর ভাই। তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কিছু। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ভাইয়ের বাড়ি গিয়ে বাবার মৃতদেহ দেখে হতভম্ভ হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিসে খবর দেন। সকাল এগারোটা নাগাদ তিনি ঘরের ভিতরে ঢুকতেই পচা গন্ধ পান। দেখেন, বিছানায় শুয়ে তাঁর বাবার পচাগলা দেহ। তিনি ঘরের মধ্যে ভাই অজিতকেও খুঁজে পাননি। তিনি পর্ণশ্রী থানাকে খবর দেন। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়।  প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, যক্ষ্মার কারণেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধের। অন্তত পাচদিন আগে মারা গিয়েছেন তিনি। তাই দেহটি পচে গিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,  বুধবারও তাঁরা বৃদ্ধের ছোট ছেলে অজিতকে বাড়িতে দেখেছিলেন। সেই ক্ষেত্রে চারদিন ধরে বাবার দেহ ছেলে আগলে রেখেছিলেন। তিনি কাউকে খবরও দেননি। জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের স্ত্রী বহু বছর আগেই মারা গিয়েছেন। এর পর থেকে বাবার সঙ্গে থাকতেন ছোট ছেলে অজিত। মানসিকভাবে বিপর্যস্তে বলে তিনি কোনও কাজ করতেন না। বৃদ্ধের বড় ছেলে বাবা ও ভাইয়ের দেখভাল করতেন। তিনি খাবারও পাঠাতেন। দিন কয়েক আগে তিনি শহরের বাইরে যান। যেহেতু ছোট ছেলে কিছু বুঝতেই পারেননি, তাই তাঁর দাদা খবরও পাননি। এর আগেও বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন অজিত। ফিরে এসেছেন কয়েকদিন বাদে। বাবার দেহ ছেড়ে কেন ওই ব্যক্তি বাড়ি থেকে চলে গেলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওই বৃদ্ধের বড় ছেলে অশোককুমার ঘোষ ওই একই পাড়ায় অন্য বাড়িতে থাকেন। এদিন সকালে তিনি বাবার সঙ্গে দেখা করতে যান। অশোকবাবু বললেন, সে সময়ে বাড়ি ছিলেন না তাঁর ভাই অজিত। বাড়িতে ঢোকার মুখে পচা গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয়। ঘরে ঢুকে দেখেন, বাবার পচাগলা দেহ পড়ে আছে। স্তম্ভিত অবস্থায় তিনি পর্ণশ্রী থানার পুলিসকে ফোনে সব জানান। পুলিস এসে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অশোকবাবুর কথায়, বাবার দেহ এভাবে পচাগলা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে যাই। গোটা ঘর গন্ধে ভরে গিয়েছিল। কীভাবে এক ঘরে ভাই থাকল, সেটাই ভাবছি।

প্রসঙ্গত, অজিতবাবুর কাণ্ড মনে করিয়ে দিচ্ছে পার্ক স্ট্রিটের পার্থ দে-র ঘটনা। ২০১৫-র ১০ জুন। রবিনসন স্ট্রিটের একটি বাড়ির শৌচাগার থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৭৭ বছরের এক ব্যক্তির অগ্নিদগ্ধ দেহ। সেই বাড়িতে গিয়ে পুলিস জানতে পারে, মৃত ব্যক্তির ছেলে তাঁর দিদির কঙ্কালের সঙ্গে মাসের পর মাস ওই বাড়িতে ছিলেন। দিদির কঙ্কালকে খেতেও দিতেন ভাই— পার্থ দে। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাথরুমে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান পার্থ