অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

33

মালদা, ৭ ফেব্রুয়ারি: অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়েই থাকল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। ঘেরাও হলেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরি। রেজিস্টার কে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান বিক্ষোভকারীদের। অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ অনৈতিক দাবি করলেন রেজিস্টার।

স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এ অস্থায়ী কর্মীরা সোমবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে আরম্ভ করেন। প্রায় ২৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয় ডেপুটি কন্ট্রোলারকে। মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভকারীরা এরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী কর্মীরা। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিড়ি বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছলে মিল গেটে আটকে দেওয়া হয় তাকে। তাকে ঘিরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। মেন গেটের সামনে ঘেরাও করা হয় রেজিস্টার কে। উঠে গো ব্যাক স্লোগান ও। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরন করছে। অস্থায়ী কর্মী শম্পা মিত্র অভিযোগ করে বলেন, তাদের কোনো দাবিদাওয়া মানছেনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই তারা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবি দাবি মানা না হলে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

এই বিষয়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিড়ি জানান, অস্থায়ী কর্মীরা দশটি দাবি জানিয়েছিলেন। যার অধিকাংশই পূরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি ৪২০০ টাকা করে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রত্যেক অস্থায়ী কর্মচারীর। তবে স্থায়ীকরণের বিষয়টি তাদের হাতে নেই। সরকার অনুমোদন দিলে তবেই তা সম্ভব হবে। এদিকে লাগাতার বিক্ষোভের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন রেজিস্টার। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা চলছে। শাসক দলের মধ্যেই এই অরাজকতা চলছে বলে কটাক্ষ জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন শাসক দলের একশ্রেণীর নেতারা কাটমানির জন্য এই ধরনের আন্দোলনকে ইন্ধন যোগাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আন্দোলনে নামা হবে বলেও জানান তিনি।

মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রিয় সাহা বিজেপির অভিযোগ খণ্ডন করে জানিয়েছেন,জেলা সভাপতি মৌসুম নূর বিপক্ষ কে নিয়ে আলোচনা করে সমাধান সূত্র বের করার চেষ্টা করছেন। বুধবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। তারপরও আন্দোলন অব্যাহত আছে কেন তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলে জেলা সভানেত্রী মৌসুম নূর এই সমস্যার সমাধান করবেন বলেও জানান তিনি।

লাগাতার এই আন্দোলনের জেরে কার্যত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। ১৭ ই ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর এর পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার কথা। আন্দোলনের জেরে সঠিক সময়ে সেই পরীক্ষা হবে কি না তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।