১৫ মাসের মধ্যে এরাজ্যে নির্বাচন, মমতা ব্যানার্জী ৩০টার বেশি সিট পাবে না : মুকুল রায়

24

পার্থ দাস, বীরভূমঃ আজ নানুরে রামকৃষ্ণপুর গ্রামে নিহত বিজেপি নেতা স্বরূপ গড়াইয়ের বাড়িতে গেলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সেখানে নিহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী চায়না গড়াইকে লক্ষাধিক টাকার চেক তুলে দেন তিনি। এইদিকে চায়না গড়াই জানান,‘আমি সারাজীবন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে থাকবো। আর আমার স্বামীর খুনে সিবিআই তদন্ত করে দেখা হোক কে বা কারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। এবং অবিলম্বে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করুক ও উপযুক্ত সাজা প্রদান করুক।’

মুকুল রায় নানুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রসঙ্গে বলেন,“বীরভূম পুড়ছে,বাংলা পুড়ছে আর উনি বসে,বসে ছবি আঁকছেন,গান গাইছেন।”  এরপরেই তিনি বলেন,“বীরভূম জেলায় গত একবছরে তৃনমূলের দ্বারা আমাদের বিজেপি কর্মী মোট ৯ জন খুন হয়েছে। শহিদ পরিবারের লোকজনদের দেখতে, দেখতে আমার চোখের জল শুকিয়ে যাচ্ছে। সারা বাংলায়  শ্মশান আর কবরস্থান দেখতে,দেখতে আমার চোখের জল শুকিয়ে যাচ্ছে।” এরপরেই ঠিক বীরভূম পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন,“শুনে রাখুন আর ১৫ মাস বাকি রয়েছে নির্বাচনের। আইন,শাসন সমস্ত কিছু বলবৎ রাখুন। নভেম্বর মাস থেকে ইলেকশন মুড অফ কন্টাক্ট শুরু হয়ে যাবে থাকতে পারবেন না বীরভূমে!” এরপরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে বলেন,“বিধানসভায় মমতা ৩০ টার বেশি সিট পাবে না।”

এনআরসি প্রসঙ্গে মুকুলবাবু বলেন, “এত বড় অশিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় আগে কখনো আমি দেখিনি। আমরা প্রফুল্ল সেনকে মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি,প্রফুল্ল ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি,বিধান চন্দ্র রায়কে মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি, দেখেছি জ্যোতি বসুকে। কিন্তু কাউকে বলতে শুনিনি যে,লন্ডনে সেলিকিডস বাইরান এবং রবীন্দ্রনাথের মিটিং হয়েছিল। আমরা কোনদিন শুনিনি যে, রামমোহন রায় এই বিধানসভার সদস্য ছিলেন,আমরা কোনদিন শুনিনি যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফলের রস খাইয়ে গান্ধীজিকে অনশন ভাঙিয়ে ছিলেন। সুতরাং অশিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী এটা বাংলার জন্য অত্যন্ত কলঙ্ক এবং লজ্জাজনক অধ্যায়।”

বীরভূমে নানুরের মাটিতে এসেও রাজীব কুমার প্রসঙ্গে তিনি বলতে ছাড়েননি। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন,“রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে? মমতা ব্যানার্জি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে মমতা ব্যানার্জি! সরকারি কাজে বাধা দিলে বিভিন্ন লোকের মামলা হয়, সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্ত করছে। সেখানে যেভাবে সিবিআই আধিকারিকদের গলাধাক্কা দিয়ে তুলে নিল তাহলে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে মামলা হবে না কেন?যারা রাজিব কুমারের হয়ে ধর্নায় বসলেন কেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না?”

গতকাল বীরভূমে বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল সহ একাধিক বিজেপির নেতাকর্মীকে সিউড়ি এসপি অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশকে আক্রমণ করে শ্যামাপদ মণ্ডলের উদ্দেশ্যে মুকুলবাবু বলেন,“আমাদের জেলা সভাপতি অত্যন্ত ভদ্র লোক। পুলিশ প্রশাসনের কোন চক্ষুলজ্জা নেই। একজন জেলা সভাপতি বসে আছে তাকে অনুরোধ না করেই জোড় করে তুলে নিয়ে গেলেন। ১৫ মাস পর যখন মন্ত্রী হবেন তখন তো স্যালুট করবেন?”

অবশেষে বীরভূম জেলার প্রসঙ্গে মুকুলবাবু বলেন,“বীরভূম হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জেলা। এখানে জয়দেব মেলা হয়। বাউল গানের আসর বসে। বীরভূমের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। কিন্তু এখন বীরভূমে দেখা যাচ্ছে খালি বোমাবাজি। জার জেরে উড়ে যায় বাড়ি,অফিস।”