সিএএ বিরোধী দলগুলির বৈঠক বয়কট করলেন মমতা

213

ওয়েব ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ সিএএ-র প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলির বৈঠক বয়কট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বাম ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নোংরা রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাই সিএএ ও এনআরসি ইশুতে একাই লড়বেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আগামী ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির নেতাদের বৈঠক রয়েছে।ওই দিন বেলা ২টোয় সংসদের অ্যানেক্স ভবনে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী, এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার, ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনসহ অন্যদের। আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বাম দলগুলিকেও। ওই বৈঠকেই যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির।

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় এসে বুধবার বাম-কংগ্রেসের ডাকা বনধ নিয়ে হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যত নিজের ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি বলেন, ‘যারা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছেন তাদের বলছি, দিল্লিতে এক পলিসি, এখানে এক পলিসি মানব না।এনআরসি, এনপিআর এর বিরুদ্ধে লড়ব, কিন্তু আপনাদের সঙ্গে থাকব না।বাস জ্বালিয়ে দেবে সেটা আমরা মেনে নেব না। সিপিএম কংগ্রেস গুন্ডাগিরি করছে। এখানে ওরা যা করছে তাতে আমি আর সিপিএম কংগ্রেসের সঙ্গে একসঙ্গে কিছু করব না। ধর্মের ভিত্তিতে কোন ভাগাভাগি আমরা মানবো না, এনআরসি মানবো না। এটা নিয়ে আগেই রাজ্য বিধানসভার সর্বদলীয় প্রস্তাব পাস হয়েছে। এরা কালকে বাসে আগুন জ্বালিয়েছে, ভাঙচুর করেছে। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে দিল্লিতে এক পলিসি এরা এখানে আরেক পলিসি। এটা চলবে না, আমি বনধের বিরোধিতা করি, আমরা ধর্মঘট মানছি না।’

এদিকে মমতা ব্যানার্জি বৈঠকে যোগ দিতে বেঁকে বসায় সমালোচনা শুরু করেছে বাম ও কংগ্রেস। খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপিও। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা ব্যানার্জি ৬ মাসের বেশি কারোর সঙ্গে থাকতে পারেন না। আর উনি কিসের ফ্রন্টের কথা বলছেন।”

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বুঝেছেন দিল্লি গিয়ে তিনি কল্কে পাবেন না। তাই বোঝা যাচ্ছে কে আরএসএস-র পক্ষে।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “উনি ইশু সমর্থন করছেন। বনধ সমর্থন করছে না। অদ্ভুত যুক্তি দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।” সোনিয়া গান্ধীর ডাকে বিরোধীদের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো, সংবাদসংস্থা পিটিআই