গণতন্ত্র বাঁচাতে অ-বিজেপি শাসিত মুখ্যমন্ত্রীদের একজোট হতে আহ্বান মমতার

59

ওয়েব ডেস্ক, ২৪ ডিসেম্বরঃ গত লোকসভা ভোটে মোদীকে হটাতে একযোগে বিরোধীদের এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করেছিলেন মমতা। এবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিরোধীদের একজোট হতে আহ্বান জানালেন মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত অবিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এই বিষয়ে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল নেত্রী।

চিঠিতে মমতা লিখেছেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং ‌এনআরসি নিয়ে দেশে জাতি-‌ধর্ম নির্বিশেষে, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা, কৃষকেরা, তফসিলি জাতি-‌উপজাতি ও অন্য পিছিয়ে ‌পড়া সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘুরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। এক মঞ্চে আসার বার্তাও দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘‌আমরা সকলে মিলে, আসুন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও অর্থপূর্ণ বিরোধিতা গড়ে তুলি।’‌

কেন্দ্রের নতুন আইন এবং রাজ্যে রাজ্যে এনআরসি চালু করার নীতিকে ‘‌বিভাজনমূলক’‌ বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএএ–এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে শরদ পাওয়ারকে। কংগ্রেস শাসিত রাজ্য যেমন পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীরাও জানিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে এনআরসি হচ্ছে না।

আর শুধু বিরোধীরাই নন, বিজেপির একাধিক শরিক দলও এনআরসির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। মহারাষ্ট্রের শাসক দল শিবসেনাও জানিয়ে দিয়েছে, মহারাষ্ট্রে এনআরসি হবে না। বিহারের নীতীশ কুমার, ওডিশার নবীন পটনায়কও এনআরসির বিপক্ষে কথা বলেছেন। সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডিও জানিয়েছেন, অন্ধ্রে এনআরসি হচ্ছে না। আর দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ তো রয়েছেই।সব মিলিয়ে বিরোধীরা একজোট হলে বেশ চাপে পড়বে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। আর ইতিমধ্যেই সেই প্রবণতা দেখা দিতে শুরু করেছে। সেই কারণেই এনআরসি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কোনও মিল নেই। নির্বাচনী ইস্তেহার থেকে শুরু করে টুইটার, অমিত শাহের ভাষণ, এমনকি সংসদেও, সব জায়গায় বারবার উঠে এসেছে এনআরসি। আর রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে মোদী এসে বললেন, এনআরসি নিয়ে নাকি আলোচনাই হয়নি!‌    ‌‌