জেএনইউ-কাণ্ডে সাংসদদের দিল্লি পাঠাচ্ছেন মমতা

116

ওয়েব ডেস্ক, ৬ জানুয়ারিঃ রবিবার রাতে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে প্রবেশ করে মুখোশধারীদের তিন ঘন্টার তান্ডবে রক্তাক্ত হল ক্যাম্পাস। ঘটনায় আহতের সংখ্যা ২৬। তবে কারা এই মুখোশধারীরা? প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহতদের অভিযোগ বহিরাগতরা বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর সদস্য। প্রায় শ’ খানেক মুখোশধারীরা এসে এই তান্ডব চালায় বলেও অভিযোগ করেন পড়ুয়ারা।গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আক্রান্ত পড়ুয়াদের প্রতি সংহতি জানাতে দীনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লি যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার দিন রাতেই ট্যুইট করে মমতা  লেখেন, ‘জেএনইউতে পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের ওপরে বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করছি। এমন ঘৃণ্য ঘটনা ব্যখ্যা করার মতো ভাষা নেই। এটা আমাদের গণতন্ত্রের লজ্জা। জেএনইউ-র প্রতি সংহতি জানাতে দীনেশ ত্রিবেদীর  নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি যাচ্ছে।’ তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলে দীনেশ ছাড়াও থাকবেন সাজদা আহমেদ, মানষ ভুঁইঞা এবং বিবেক গুপ্তারা। একইভাবে জেএনইউ-র ঘটনায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিও। ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘জেএনইউতে যা হচ্ছে তা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে সামাজিক এবং নাগরিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করার উদাহরণ। পড়ুয়ারা ভারতের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের পাশে আছি আমরা। জেএনইউতে চলতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সমস্ত ধরনের সহায়তা করব।’

ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ বলেন, “মুখোশ  পরা গুন্ডারা আমার উপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে। আমার রক্তপাত হয়েছে। আমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে।” এক বিবৃতিতে ছাত্র সংদ জানিয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতে এবিভিপি-র সদস্যরা লাঠি, রড, হাতুড়ি নিয়ে ঘুরছে। ইট ছুঁড়ে মারছে। দেওয়াল বেয়ে হস্টেলে ঢুকে পড়ুয়াদের মারধর করছে। বেশ কয়েকজন অধ্যাপক ও পড়ুয়াকে মারধর করা হয়েছে। জেএনএসইউ সভাপতি ঐশী ঘোষের উপর নির্মমভাবে হামলা চালান হয়েছে। ভীষণ খারাপভাবে রক্তক্ষরণ হয়েছে তাঁর মাথায়। বাঁচাতে গেলে অন্যদের তাড়া করা হচ্ছে। পুলিশ সব দেখেছে। তারা সংঘী অধ্যাপকদের কাছ থেকে নির্দেশ নিয়ে পড়ুয়াদের ‘ভারত মাতৃ কি জয়’ স্লোগান দিতে বাধ্য করেছে।”