ফের সেরা বাংলা, ‘গণ অভিযোগ সমাধানে’ এবার স্কচ ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ পুরস্কার জিতল মমতার সরকার

147

ওয়েব ডেস্ক, ১ আগস্টঃ ফের বিখ্যাত স্কচ ফাউন্ডেশনের দেওয়া অনন্য সম্মান পেল পশ্চিমবঙ্গ। আবারও সেরা বাংলা। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের অধীনে থাকা জন অভিযোগ সেল তাদের অসাধারণ সাফল্যের জন্য স্কচ প্ল্যাটিনাম পুরস্কার পেয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা ও পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ শুনে তার নিষ্পত্তি করতে গত বছর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে এই জন অভিয়োগ সেল চালু করেছিলেন। সেই ‘ই সমাধান’ এবার স্কচ ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ পুরস্কার জিতল। দিল্লির অনুষ্ঠানে বাংলার জন্য ঘোষিত হল প্ল্যাটিনাম পুরস্কার। কোনও ক্ষেত্রে সেরা পুরস্কার হিসেবেই এটি বিবেচিত হয়।

নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ওই জন অভিযোগ সেল চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আট লাখ ১৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৯৫ শতাংশের মীমাংসা করা সম্ভব হয়েছে। এই বছর স্কচ প্লাটিনাম সম্মানের জন্য বিভিন্ন বিভাগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় চার হাজার মনোনয়ন জমা পড়েছিল।

জানা গিয়েছে, প্রতিবছরই স্কচ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দশটি তিনটি সোনা ও একটি প্লাটিনাম সম্মানে সম্মানিত করা হয় সেই সব সংস্থা বা মানুষকে যারা মূলত দেশের বুকে ভালো ভালো প্রকল্প বাস্তবায়িত করে দেখাতে পারেন। এবছর প্লাটিনাম পুরস্কারের জন্য সারাদেশে থেকে ৪ হাজার মনোনয়ন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাগরিক অভিযোগ নিরসন উদ্যোগ ‘ই-সমাধান’ কেই বেছে নেওয়া হয় শ্রেষ্ঠ বলে। গত বছর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এখনও পর্যন্ত ৮ লক্ষ ১৬ হাজার নাগরিকের অভিযোগ জমা পড়েছে এই গণঅভিযোগের প্রকল্পে। আর সব থেকে বড় কথা এই অভিযোগগুলির মধ্যে ৯৫ শতাংশ অভিযোগেরই নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের মাধ্যমেই। এর আগে ২০১৪ সালে রাজ্য সরকার স্কচ ফাউন্ডেশনেরই এই পুরস্কার পেয়েছিল শুল্ক দফতরের ই-আবগারি প্রকল্পের জন্য

দেশে বিভিন্ন সরকারের কাজের ক্ষেত্রে স্কচ ফাউন্ডেশন-এর পুরস্কারের স্বীকৃতির মূল্য রয়েছে। এবছর ৪ হাজারের বেশি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। সব মিলিয়ে দশটি সিলভার, তিনটি গোল্ড আর একটি প্ল্যাটিনাম পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আর সেই একটি সর্বোচ্চ পুরস্কারই এসেছে বাংলার ঝুলিতে। বৃহস্পতিবার স্কচ সামিট এই ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের অভিনব প্রকল্পের প্রশংসা করে বলা হয়েছে যে, কার্যকরী ম্যানেজমেন্ট ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সুরাহা পেয়েছেন বহু মানুষ। উল্লেখ্য, যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে নানা অভিযোগ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন বা ই-মেল করেছেন, তার অন্তত ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে। জন অভিযোগ সিস্টেমের এক বছর পূর্তিতে এই প্রসঙ্গে তথ্য জানায় নবান্ন। এর আগে ২০১৪ সালে আবগারি দফতরের ই-আবগারি ব্যবস্থা স্কচ ফাউন্ডেশনের প্ল্যাটিনাম পুরস্কার পেয়েছিল।

উল্লেখ্য , গুরুগ্রামে অবস্থিত স্কচ গোষ্ঠী ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একটি থিঙ্কট্যাংক। দেশের শিল্পবাণিজ্য মহল , প্রশাসনিক বিভাগ ও দফতর , আর্থিক ক্ষেত্র, প্রযুক্তি সংস্থা বা সামাজিক ক্ষেত্রে উত্কর্ষের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে প্রতি বছরই বিশেষ পুরস্কার দেয় এই গোষ্ঠী৷ পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত -সহ একাধিক দফতর এর আগেও এই গোষ্ঠীর স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে কাজের গতি সুগম ও দ্রুত করার জন্য এর আগেও স্কচ প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। শিশুসুরক্ষা , সার্বিক বিকাশ ও শিশুশিক্ষায় উত্কর্ষতেও নজর কেড়েছে রাজ্য সরকার।