দ্বিতীয় ডোজ টিকাকরণের লম্বা লাইন,সমস্যায়ও পরতে হচ্ছে অনেককেই

36

আব্দুল হাই, বাঁকুড়াঃ আজ বাঁকুড়া পৌরসভার আরবান প্রাইমারি হেল্থ সেন্টারে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন চোখে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যেভাবে এই রাজ্যে আছড়ে পড়েছে তাতে মাস্ক পরা স্যানিটাজার ব্যবহার করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সাথে সাথে করোনার ভ্যাকসিন নেওয়া একান্তই জরুরি। তাঁরা জানিয়েছেন যে করোনার ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিতে হবে তবেই করোনার বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধাত্মক শক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তাই যাঁরা এর আগে প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন আজ তাঁরা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে আসেন। কিন্তু আজ করোনার ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষেরা যেভাবে সামাজিক দূরত্বের নিয়মকে না মেনে ঘেঁষাঘেষি করে লাইনে দাঁড়ান তাতে এখান থেকেই তাঁদের করোনা সংক্রামিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়।

এই বিষয়ে বাঁকুড়া নিবাসী রাজেন্দ্র প্রসাদ সিনহা বলেন যে তিনি এর আগে দশেরবাঁধে তাঁর মা’কে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন যে তাঁর যেহেতু একটিই মোবাইল ফোন আছে তাই তিনি তাঁর মা স্ত্রী ও তাঁর নিজের নাম নথিভুক্ত করান। সেখানে তিনি তাঁর মা’কে প্রথম ডোজ দেওয়া করান। কিন্তু আজ তাঁর মা’কে দ্বিতীয় ডোজ নিতে এলে তাঁকে জানানো হয় যে একটি মোবাইল নম্বর থেকে একের বেশি নাম নথিভুক্ত করা যাবে না। তিনি বলেন যে এখন তিনি মহা ফাঁপরে পড়েছেন। তিনি জানান যে তিনি দশেরবাঁধে গিয়েও জিজ্ঞেস করেন কিন্তু তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর মা’কে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে না । তিনি বলেন যে তিনি এবার অনুরোধ করে দেখবেন যে তাঁর মা’কে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ানো যায় কি না। অন্যদিকে বিশ্বনাথ পাল নামে আরও এক ব্যক্তি জানান যে তিনি তিন তারিখে দশেরবাঁধে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেন। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজের জন্য তাঁর কাছে কোনো ম্যাসেজ আসে নি। তিনি ওখানে গিয়ে জানার চেষ্টা করেন যে তাঁকে দ্বিতীয় ডোজ কবে নিতে হবে কিন্তু তাঁকৈ এখানে ঈদগাহ মোহল্লাতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে এসেও তিনি কোনো সদুত্তর পান নি। তিনি জানতে চান যে তাঁকে কবে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। আজ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া এক ব্যক্তি জানান যে তাঁর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েও কোনো অসুবিধা হচ্ছে ন। এর আগে তিনি বনকাটিতে প্রথম ডোজ নেন। তিনি বলেন যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে তাঁর কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি জানান যে ডোজ নেওয়ার আগে ও নেওয়ার পর আধ ঘন্টা বসতে হয়। কিন্তু তিনি এখানকার ব্যবস্থাপনা তে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার বিষয়ে যে সমস্যাগুলি হচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে বাঁকুড়া পৌরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য দিলীপ আগরওয়াল বলেন যে যাঁদের দ্বিতীয় ডোজ নিতে অসুবিধা হচ্ছে তাঁরা বাঁকুড়া পৌরসভায় এসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও যাঁদের অসুবিধা হচ্ছে তাঁরা দশেরবাঁধের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ।