মাথাভাঙ্গায় বাইসনের তাণ্ডব, আহত ২ বন কর্মী সহ অনেকে এলাকায় আতঙ্ক

197

বিদ্যুৎ কান্তি বর্মন, ঘোকসাডাঙ্গাঃ ঘন কুয়াশায় দিক ভ্ৰস্ট দল ছুট হয়ে ছয়টি বাইসন ঢুকে পড়ল লোকালয়ে।দিনভর বাইসনের দাপাদাপিতে আতঙ্কে গ্রামবাসীরা। বাইসনদের বাগে আনতে আহত হন বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার সহ দুই জন। বন দপ্তরের কর্মীদের চেষ্টায় তিনটি বাইসনকে ঘুম পাড়ানি গুলি করে নিজেদের হেফাজতে নিলেও বাকি তিনটির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে বনদপ্তরের কর্মীরা। মঙ্গলবার মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের বড় শৌলমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম মুকুল ডাঙা গ্রাম এবং দেওয়ান বস বনবাসী ,কালাপানি চর গ্রাম এলাকায় এমনই চিত্র ধরা পড়ল দিনভর।

জানা গিয়েছে, এদিন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল গোটা গ্রাম, জল ঢাকা নদী তীরবর্তী পশ্চিম মুকুলডাঙা গ্রামের যুবক মনজিত বর্মন, বাপ্পা বর্মন সকাল ৬ টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে বাইসনের মত কিছু একটা দেখতে পান।এরপর তারা নদী তীরবর্তী এলাকায় গেলে তারা ছয়টি বাইসন দেখতে পান বলে দাবি করেছেন। কিন্তু সকাল ৭ টা নাগাদ বাইসন গুলি নদীর চড় থেকে পুনরায় স্থানীয় রাস্তায় উঠে এলে অনেকেই দেখতে পান ছয়টি বাইসনকে।

কিছুক্ষনের মধ্যেই বাইসনের বিষয়টি চাউর হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়ে,আতঙ্কিত হয় গোটা গ্রাম। খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে আসে ঘোকসাডাঙ্গা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অন্যদিকে বন দপ্তরের মাথাভাঙ্গা ডিভিশন, কোচবিহার ডিভিশন ,জলদাপাড়া ডিভিশন,বক্সসা ডিভিশন এবং মাদারী হাট ডিভিশন এর আধিকারিক এবং বন কর্মীরা ছুটে আসেন বড় শৌলমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।অন্যদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইসন গুলি এলো পাথারি এদিক ওদিক ছোটা ছুটি শুরু করে। মাদারী হাট নিবাসী সামিয়ার মিঞা মুকুল ডাঙায় শ্বশুড় বাড়িতে আসেন দুর্ভাগ্য বসত তিনি একটি বাইসনের মুখ মখী হলে বাইসনের গুতো খেয়ে গুরতর জখম হন এবং তাকে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।

আবার কোচবিহার ডিভিশনের রেঞ্জার অভিজিৎ নাগ গুরুতর জখম হন,ওনার পা ভেঙে যায় বলেও জানা যায়। অপর দিকে বাইসনের আতঙ্কে পালাতে গিয়ে প্রতাপ বর্মন এবং শিবু দে নামের দুই গ্রাম বাসী যেমন আহত হয় তেমনি ছয় থেকে সাত টি গরুকে ঘায়েল করেছে বাইসন বলে স্থানিও সূত্রে জানা যায়। অনেক চেষ্টা করে দুপুরের দিকে তিনটি বাইসনকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে নিজেদের আয়ত্বে আনতে সক্ষম হন বন কর্মীরা।

এ বিষয়ে কোচবিহার অডিওফ রাজু রায় জানান এখনো পর্যন্ত দুটিটি বাইসন কে ধরে চিলাপাতা জঙ্গলে পাঠিয়ে দিয়েছি ,বাকি বাইচন গুলো খোঁজ করছে আমাদের কর্মীরা।দিনের আলো পর্যন্ত খোঁজার পরেও উদ্ধার না হলে রাতেও বন কর্মীদের টহল চলবে এলাকায়।