কোচবিহারে ছট উৎসবে তোর্ষায় বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে বিপত্তি, পরিদর্শনে গেলেন মন্ত্রী

834

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ ছটপূজা উপলক্ষ্যে তৈরি করা বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে আহত বেশ কিছু পূর্ণাথী। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকালে কোচবিহার ফাঁসিরঘাট এলাকায়। ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছায় কোচবিহার কোতোয়ালী থানার পুলিশ। পরে এলাকা পরিদর্শনে যান কোচবিহার সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সহ একাধিক আধিকারিকরা।

জানা গেছে, ছটপূজা উপলক্ষ্যে তোর্সা নদীর উপর তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো। এদিন বিকেলে অস্তমিত সূর্যকে আমন্ত্রন জানিয়ে পুর্নাথীরা যখন ছটের ডালি মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। সেই সময় কোচবিহার ফাঁসিরঘাট এলাকায় অস্থায়ী ভাবে নির্মিত বাঁশের সাঁকোতে হঠাৎ করে বহু মানুষ উঠতেই ভেঙ্গে পরে সাঁকোটি। এর ফলে ওই সাঁকো ভেঙ্গে বেশ কিছু মানুষ জলে পরে যায়। ঘটনায় এই পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও, নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। তড়িঘড়ি শুরু হয়েছে সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের কাজ।

এদিন দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার সন্তোষ নিম্বালকর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি টিম ওই সাঁকো পরিদর্শনে করেন। কিন্তু এর পরে ওই বিপত্তি কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাঁকো নির্মাণের কাজ চলছে

যদিও সাঁকো ভাঙ্গায় ঘটনা নির্মাণ কর্মের কোন গফিলতি মানতে চান নি কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিং। তিনি বলেন, “এক সাথে বহু মানুষ ওই  সাঁকোতে উঠায় এই বিপত্তি হয়েছে। শুধু মাত্র পৌরসভার উপর দোষ চাপালে হবে না। পুর্নাথী ও দর্শনারথীদের অসতর্কতার কারনে এই ঘটনা ঘটে।”

যদিও সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল বলেন, “দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হন নি। সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আশা রাখছি রাতের মধ্যেই তার কাজ শেষ হবে। ভোর রাতে এই সাঁকো ব্যবহার করতে পারবে পুর্নাথীরা। এছাড়াও নদী পারাপার করার জন্য নৌকার ব্যবস্থা থাকবে এবং একই সাথে বিপর্যয় মোকাবিলার টিম থাকবে সেখানে।”  

ভেঙ্গে যাওয়া সাঁকো

এদিন এবিষয় নিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন,“হঠাৎ করে নদীতে জল বেড়ে যাওয়া এবং সাঁকোর উপর অনেক মানুষ উঠে পরায় এই বিপত্তি হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের তত্বাবধনে কাজ শুরু হয়েছে তা রাতের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।”