হারিয়ে গিয়েছে ঢেঁকি

87

পর্না কার্যী, ১৪ জানুয়ারিঃ  ‘কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভাঙে।’ কিন্তু সেই ঢেঁকি আজ আর আগের মত ধান ভাঙে না। সময়ের জাঁতাকলে, আধুনিক যন্ত্রের  রমরমা বাজারে, রোগভোগের বাড়বাড়ন্তে আর ব্যাস্ততার সমীকরণে হারিয়ে গেছে ঢেঁকি।

একটা সময় ছিল যখন এই পিঠে-পুলির সময়ে প্রত্যেক বাড়ি থেকে শব্দ আসত ঢেঁকি ভাঙ্গার। ধান কোটা থেকে চাল গুঁড়ো করা সবই হত ঢেঁকি দিয়ে। পরিবারে আসা নববধুকেও ঢেঁকি দিয়েই চাল গুঁড়ো করতে হত । সেসব এখন ইতিহাস।

পৌষ পার্বণে পিঠের স্বাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কারোর দ্বিমত নেই। চালের গুঁড়ো কীভাবে আসে আজকের বৈদ্যুতিক কলে ভাঙানো চালের যুগে সবাই ভুলে গেছে। কৃষিনির্ভর ভারতীয় জীবনে ঘরে ঘরে থাকত ঢেঁকি। আর পৌষপার্বণের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত চাল গুঁড়ো করার কাজ। ঢেঁকি পার দিতেন, চালের গুঁড়ো চালতেন মহিলারাই। মস্ত এক কাঠের গুড়ির ওজনকে কাজে লাগিয়ে ধান ভাঙা ও চাল গুঁড়ো করার কাজ হত। গ্রামীণ অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল এই ঢেঁকি।

গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে অনেক খুঁজলে কোথাও কোথাও অবশ্য আচমকা দেখা মিলে যায় স্বর্গে গিয়েও ধান ভাঙ্গা ঢেঁকির।