বাংলা সফরে এসে মমতা সাথে বৈঠকের সম্ভাবনা মোদীর

97

ওয়েব ডেস্ক, ১১ জানুয়ারিঃ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক পুঞ্জি আইনের সমর্থনে আজ শনিবার বাংলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বাংলা সফরে আসছেন তিনি। উল্লেখ্য, ক্যা আইন পাশ হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে লেগেছিল বিক্ষোভ। আর এই বিক্ষোভের মাঝে শনিবার বিকালে কলকাতার বুকে পা রাখবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যদিও প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক নিয়ে বাম-কংগ্রেস ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, মোদির সঙ্গে মমতার যোগ আছে। যদিও তা নস্যাৎ করে দিয়েছে নবান্ন। নবান্নের এক শীর্ষকর্তার দাবি, রাজ্যের বহু ক্ষেত্রেই বহু বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও  রাজ্যের একগুচ্ছ দাবি-দাওয়া রযেছে। এইসব নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে অন্য কোনও মানে খোঁজাই অনুচিত।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের বুধবার  বাম-কংগ্রেসের বনধে হিংসাকে দায়ী করে সোনিয়া গান্ধীর ডাকা বিরোধী বৈঠক বয়কট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মমতার। প্রশাসন

সূত্রের খবর, শনিবার রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রূদ্ধদ্বার বৈঠক হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর। তাছাড়া, রবিবার প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীও। নবান্ন সূত্রের খবর, আজ রাত সওয়া ৯টা নাগাদ রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ মিলেনিয়াম পার্কের অনুষ্ঠানেও দু’জনের হাজির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার সকালে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের ১৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে দু’জনকে একই মঞ্চে দেখতে পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে রাজ্যের তরফে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে পাঠানো হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী বেলুড় থেকে ফেরার পর রাত ন’টা নাগাদ রাজভবনে সাক্ষাৎ হতে পারে মোদি-মমতার। রূদ্ধদ্বার বৈঠকেরও সম্ভাবননা আছে। পরেরদিন বন্দরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর একমঞ্চে থাকাটা একপ্রকার নিশ্চিত। যদিও, প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী কারও দপ্তর থেকেই এখনও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। মোদি-মমতার এই সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রসঙ্গত, একদিন আগেই যেভাবে মমতা সোনিয়ার বৈঠকে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বাম-কংগ্রেস মোদি-মমতার এই বৈঠক ঘিরে ফের আঁতাতের অভিযোগ করছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি এবং কার্যসূচি রাতারাতি ঠিক হয় না। এখন সবাই বুঝতে পারছেন, উনি ১১-১২ তারিখ কলকাতায় থাকবেন। এটা ওঁর পূর্ব সিদ্ধান্ত। তাই মোদীকে খুশি করতে দিল্লিতে সনিয়া গান্ধীর ডাকা বৈঠকে যাচ্ছেন না। তৃণমূল এবং বিজেপির নিষ্ঠাবান কর্মীদের জন্য দুঃখ হচ্ছে। বাংলায় যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার লড়াই লড়ছেন, তাঁদের সঙ্গে তঞ্চকতা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার ব্যাখ্যা, রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী এলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াটা মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক সৌজন্য। রাজনৈতিক দূরত্ব থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কোনও একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে এড়াতে পারেন না। তাই প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অথবা মোদী-মমতা সাক্ষাতে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না তাঁরা।