মোদীর মন্ত্রীসভায় ঠাঁই হতে পারে সাংসদ নিশীথ প্রামানিকের,আশায় কোচবিহারের মানুষ

3258

মনিরুল হক,কোচবিহারঃ লোকসভা নির্বাচনে এরাজ্যে জায়গা পাকা করে নিয়েছে বিজেপি। শাসক দলের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলে ১৮টি আসন জয়লাভ করেছে রাজ্য বিজেপি। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মাঠে নেমেছে বিজেপি।

পাশাপাশি এনআরসি ও ক্যা-র বিরুদ্ধে শাসক দল যে ভাবে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে তাতে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য বিজেপি। তার প্রমান তারা পেয়েছে সদ্য হয়ে যাওয়া তিন উপনির্বাচনে। তাই তার ড্যামেজ কন্টোল করতে ক্যা-এর পক্ষে অভিনন্দন যাত্রার মাধ্যমে মাঠে নেমেছে বিজেপি। তাতেও কিন্তু কিছুটা হলেও সাধারন মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বিজেপি। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের পাখির চোখ হয়ে উঠেছে পশ্চিমবাংলা।

তাই গত লোকসভা নির্বাচনে ১৮ জন বাংলার সাংসদের মধ্যে মোদীর মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছে মাত্র দুজন। ওই দুজন মন্ত্রী হলেন বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ঘাটি সাজাতে ২জন মন্ত্রীর থেকে সেটাকে বাড়িয়ে ৫ জন করা হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন।

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হবে আগামী ১১ই ফেব্রুয়ারী। আর তারপরেই মন্ত্রীসভার রদবদলের সম্ভাবনা আছে। মোদী মন্ত্রীসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে একজন এবং দক্ষিণবঙ্গের আরও দুজনের মোদী মন্ত্রীসভায় ঠাঁই হতে পারে। বিজেপির অন্দরমহল থেকেও যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে তৃনমূলের প্রায় ভরাডুবি হয়েছে। তার জেরে বিজেপি সবচেয়ে ভালো ফল করেছে উত্তরবঙ্গে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ থেকে মাত্র একজন মন্ত্রীসভায় সুযোগ পান। তাতে হতাশ হন উত্তরবঙ্গের মানুষ। এবার উত্তরবঙ্গের মানুষ একটু আশাবাদী হতেই পারেন। উত্তরবঙ্গ জুড়ে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে এবার উত্তরবঙ্গ।

সেই রাজবংশী ভোট ব্যাঙ্ক যাতে বিজেপির পক্ষ্যেই থাকে সেই লক্ষ্যে কোচবিহারের সাংসদ নীশিথ প্রামানিককে মন্ত্রী করা হতে পারে। কারন যেভাবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো একজন হেবিওয়েট নেতৃত্বকে ঘোল খাইয়ে কোচবিহার লোকসভা আসনটিতে ৫৪ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেছেন। তারপর থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে রয়েছেন তিনি। তা নাহলে লোকসভা শপথবাক্য নেওয়ার দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিশীথ প্রামানিকের পিঠ চাপড়ে বুকে জড়িয়ে নেয়।

এছাড়াও রাজবংশীদের জন্য সংসদ সভায় নারায়ণী সেনা গঠন ও রাজবংশী ভাষা স্বীকৃতির দাবি জানান তিনি। আর এই সব লক্ষ্য পুরন করতে নিশীথ প্রামানিকের মত তরুন ও প্রতিবাদী মুখকে মোদীর মন্ত্রীসভায় এনে চমক দিতে চান বিজেপি। সূত্র মারফত জানা গেছে, কোচবিহারে সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে রেলের রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বসাতে পারেন। এই খবর চাউড় হতে না হতেই শুরু কোচবিহার নয় গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে রাজবংশী মানুষের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে।

এবিষয়ে কোচবিহারের এক রাজবংশী যুবক হারাধন বর্মণ বলেন, কোচবিহারে এই কোন রাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছে। তাও এবার রেলের। এতে সাধারন মানুষ তথা উত্তরবঙ্গের মানুষ খুব খুশি। আমরা চাই নিশীথ বাবু যাতে মোদীজির মন্ত্রী সভায় ঠাই পায় এই আশাই রাখছি।

এর পাশাপাশি এবাংলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্তকে মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন। বাঁকুড়ার সাংসদ সুভাষ সরকারের নামও প্রস্তাবিত হয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়কে আরও কাছে পেতে শান্তনু ঠাকুরকে মন্ত্রী করা হতে পারে। কারন ইতিমধ্যে নাগরিক সংশোধিত আইন ঘোষণা করার পর থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপির সমর্থনে নেমে বিভিন্ন জায়গায় ক্যা-এর পক্ষে মিছিল করছিল। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট পেতেই শান্তনু ঠাকুরকে মন্ত্রীত্ব দিতে পারে।

যদিও এবিষয়ে নিশীথ বাবুর ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।