মোদির নিরাপত্তায় নির্মলা, এক লাফে বরাদ্দ ৬০০ কোটি টাকা

247

ওয়েব ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তা খাতে ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশের অর্থনীতিতে যত মন্দাই থাক, মোদির নিরাপত্তায় এতটুকু খামতি রাখতে চায় না ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই এ বার বাজটেও নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তায় দরাজ হস্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এক লাফে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি । যার ফলে, এসপিজির জন্য বাজেট বেড়ে হল ৬০০ কোটি টাকা।

উল্লেগ্য, গতবছর মোদীর এসপিজি নিরাপত্তায় বরাদ্দ ৫৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। তার আগের বছর এই ব্যয়বরাদ্দ ছিল ৪২০ কোটি টাকা। কিন্তু এবছর দেশের একমাত্র এসপিজি নিরাপত্তা প্রাপক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৩০০০ সদস্যের এই স্পেশাল প্রোটেকশন বাহিনীর জন্য মোট খরচের পরিমান বাড়ীয়ে ৬০০ কোটিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

তার আগের বছরেই বাজেটে মোদীর এসপিজি নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৫৪০ কোটি টাকা।  বর্তমানে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই এসপিজি-র নিরাপত্তা পান। ৩০০০ সদস্যের এই বাহিনী মোদীর নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকেন। বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনাও শুরু হয়েছিল দেশের রাজনৈতিক মহলে। এ ভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সমঝোতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছিল বিরোধীরা। যদিও কোনও কিছুকে পাত্তা দেয়নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

প্রসঙ্গত গত বছরের নভেম্বরে গান্ধী পরিবারের তিন সদস্য সনিয়া, প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল গান্ধীর এসপিজি নিরাপত্তা তুলে নেয় বিজেপি সরকার। গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ এনেছিল কেন্দ্র। তার আগে গত অগস্টে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নিরাপত্তা থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এসপিজিকে। আরও দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া ও ভিপি সিংও এসপিজির নিরাপত্তা পাননি।

জানা গেছে, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যার পর ১৯৮৫ সালে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি গড়ে তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়াই ছিল এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব। ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধী আত্মঘাতী হামলায় নিহত হওয়ার পর, গান্ধী পরিবারকেও এসপিজি প্রোটেকশন দেওয়া শুরু হয়।

চলতি বাজেটে মোদীর নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ৬০ কোটি বাড়ানোয়, বিতর্কের মুখে নির্মলা। দেশের আর্থিক অবস্থা খুবই সঙ্গীন বলে উল্লেখ করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প স্বচ্ছ ভারত অভিযানে বরাদ্দ কমেছে। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্পের ভবিষ্যত্‍ও প্রশ্নের মুখে। এমত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা খাতে একলাফে ৬০ কোটি টাকা বাড়ানোর যৌক্তিকতা কতটা ছিল, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।