বিজেপিতে মোহভঙ্গ, কোচবিহার ১ নং ব্লকে দলছুট ১২ জন জনপ্রতিনিধি ফের তৃণমূলে

801

কোচবিহার, ৩০ সেপ্টেম্বরঃ বিজেপিতে মোহভঙ্গ, কোচবিহার ১ নং ব্লকে জিরানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দলছুট ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্য ও ২ জন পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য ফের তৃণমূলে পতাকা তলে। সোমবার নবাগতদের বরন করেন নাটাবাড়ি বিধানসভার কেন্দ্রের তৃনমূলের কনভেনার আশরাফুল আলি ও স্থানীয় তৃনমূল নেতা তপন বর্মণ।

গানে প্রানে ‘আবার আসিব ফিরে’ এই ভাবনাকে সাথী করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে বেরাচ্ছেন তৃনমূলের দলীয় জনপ্রতিনিধিরা। আর তাতেই যেন কিছুটা ফিলগুড অবস্থায় রাজ্যের শাসক দল। লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে বড় একমের ধাক্কা খাওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়েছিল দলীয় সংগঠন। আর একেই মেরামতির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে তৃনমূল নেতৃত্ব।

৪২ এ ৪২ তো দুরস্থ, লোকসভা নির্বাচনে এই বাংলায় ২২ আসন পেয়ে থেমে গেছে তৃনমূলের বিজয় রথ। ঘাসফুলের বিচরণ ভূমিতে শুধু ঘাসফুলই নয় ফুটছে পদ্মও। আর এর ফলেই দিশেহারা হতে হয়েছে তৃনমূল শিবিরকে। এবারে হারানো জমি ফিরে পেতে জনসংযোগকে হাতিয়ার করে পথে নেমেছে তারা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি।

এই কর্মসূচির ফলে দল ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে বলে আশাবাদী জেলা নেতৃত্ব। রাজ্যের মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক রবীন্দ্র নাথ ঘোষ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে চষে ফেলেছেন তাঁর বিধানসভা এলাকা। এর পরেই মিলল সুফল। জিরানপুরে শুধু ১০ জন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নয়, বিজেপি ছেড়ে একটা বড় অংশ যোগদান করল তৃনমূলে।

এ কি মোহভঙ্গ নাকি জোড়া জুড়ির খেলা! ঘটনা যাই হোক নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ইতিমধ্যে পুনর্দখল হয় তৃণমূলের। এইদিন জিরানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা এলাকায় একটি বাড়িতে নাটাবাড়ি বিধানসভার তৃনমূলের কনভেনার আশরাফুল আলির নেতৃত্বে একটি আলোচনা সভা হয়। সেই আলোচনা সভায় জিরানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ জন পঞ্চায়েত প্রতিনিধির মধ্যে ১০ জন বিজেপি থেকে তৃনমূলে ফিরে আসেন বলে নেতৃত্বের দাবী। এদিন তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন নাটাবাড়ি বিধানসভার তৃনমূল কনভেনার আশরাফুল আলি ও তপন বর্মণ।

এদিন এবিষয়ে নাটাবাড়ি বিধানসভার কনভেনার আশরাফুল আলি বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের পর তৃনমূলের প্রতীকে জয়ী হওয়া পঞ্চায়েত সদস্য/সদস্যাদের বিজেপি আশ্রিত সমাজ বিরোধীরা তাঁদের ভয় দেখান। বিজেপির দুষ্কৃতীদের ভয়ে নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা বিজেপির পতাকা নিতে বাধ্য হয়েছিল। চার মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর এখন তাঁদের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে। তাই তারা আবার তৃনমূলে ফিরে এসেছে বলে দাবি আশরাফুলের।’

এবিষয়ে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অবিরাম মণ্ডল বলেন,“বিজেপি কর্মীরা তৃনমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছে এরকম ঘটনা আমার জানা নেই।”