শাশুড়িকে বিয়ে করল জামাই, সালিশি সভায় তালাক স্ত্রীকে

2374

ওয়েব ডেস্ক, ২৮ অক্টোবরঃ মেয়ে সংসার করতে রাজি নয় তা নিয়ে চলছে সালিশি সভা। মেয়েকে বারবার সংসার করার করতে বলার পরে মেয়ে রাজী হচ্ছে না। তাই মা রেগে গিয়ে বলেন ‘তুই সংসার না করলে আমি করব।’ আর তাতেই হল কাল। সালিশি সভার নির্দেশে জামাইকে বিয়ে করতে বাধ্য হন ওই মহিলা। সুবিচারের আশায় পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। ওই সালিশি সভায় উপস্থিত মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মহিলা। গোপালপুর থানার পুলিশকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

স্থানীয়রা জানান, গত ২ অক্টোবর গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটা গ্রামের এক দরিদ্র ব্যক্তির মেয়েকে বিয়ে করেন ধনবাড়ি উপজেলার হাজরাবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের এক যুবক (৩২)। বিয়ের পরদিন মেয়ের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান নববধূর মা। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর ১১ অক্টোবর মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে নিজের বাড়ি ফেরেন। ১২ অক্টোবর সকালে মেয়ে জানান স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না। এরপর শুরু হয় পারিবারিক কলহ। পারিবারিক কলহ সমাধানে চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদারের কাছে যান দরিদ্র বাবা। এরপর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গ্রাম্য সালিশ-বৈঠকে বসে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

সালিশে প্রথমে মেয়েকে জামাইয়ের সংসার করতে বলা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই সংসার করবে না বলে জানান মেয়ে। এ সময় সালিশ-বৈঠকে রাগান্বিত হয়ে মেয়েকে উদ্দেশ্য করে মা বলেন, ‘তুই সংসার না করলে আমি করব।’ মায়ের এমন বক্তব্যে শাশুড়ি ও জামাতার মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে গ্রাম্য সালিশ-বৈঠকে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়।

এরপর নববধূকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ের জন্য মেয়ের জামাইকে নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার। সঙ্গে সঙ্গে শাশুড়িকে তালাক দিতে শ্বশুরকে বাধ্য করা হয়। একসঙ্গে দুটি তালাকের পর শাশুড়ির সঙ্গে মেয়ের জামাইয়ের বিয়ে দেন চেয়ারম্যান। এ বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন স্থানীয় কাজি গোলাম মাওলা জিনহা।

যদিও ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী, একই দিনে তালাক ও বিবাহ দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে একই বৈঠকে তালাক দিয়ে এই বিয়ে কোনোভাবে আইনসিদ্ধ নয়। আবার ইসলামি বিধান ও অনুশাসন অনুযায়ী, শাশুড়িকে বিয়ে করা চিরস্থায়ী হারাম।

গোপালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তখন কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় কাউকে আইনের আওতায় আনা যায়নি। যেহেতু এখন মামলা হয়েছে এবং আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন সেহেতু মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।