অবস্থানে অনড় শ্রী সিমেন্ট, মুখ্যমন্ত্রীর কথা তেও চিরে ভিজলনা শ্রী সিমেন্টের কর্ণধারের

223

ওয়েব ডেস্ক, ৪ আগস্টঃ চুক্তির জট খোলার জন্য এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোর্টে বল ফেলে দিলেন লাল-হলুদ কর্তারা। সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে ‘খেলা হবে’ দিবসের প্রকল্প উদ্বোধনে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের উদ্দেশ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “একজন পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নিয়ে প্রতি বছর পঞ্চাশ কোটি টাকা দেবে। এটা তো মুখের কথা নয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই পাঁচ বছরের প্রসঙ্গ তুলে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা এদিন কার্যকরী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেন, মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হবে, ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে দিতে।” কিন্তু তারপর? ইস্টবেঙ্গল কর্তারা বলছেন, “পাঁচ বছর পর দু’পক্ষই পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনায় বসে ঠিক করবে, এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না। পারফরম্যান্স খারাপ হলে, চুক্তি শেষ।”  ইস্টবেঙ্গল কর্তারা বলছেন, “চুক্তি তো পাঁচ বছরের। তারপর চুক্তি হলে নতুন করে হবে। না হলে চুক্তির মেয়াদ শেষ। তাই কোনও পক্ষই কোনও রকম দাবি জানাতে পারে না।”

এই মর্মেই এদিন ক্লাবের সভাপতি ডাঃ প্রণব দাশগুপ্ত লিখিত বিবৃতিতে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে সম্পূর্ণ রূপে মান্যতা ও মর্যাদা দিয়ে ক্লাব এবং লগ্নিকারী সংস্থার মধ্যে আসন্ন ৫ বছরের জন্য চুক্তি সম্পাদনের বিষয়কে ক্লাব স্বাগত জানাচ্ছে।” এর সঙ্গে ক্লাবের গঠনতন্ত্র রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মর সুরক্ষা নিয়েও আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় চেয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সভাপতি। ইস্টবেঙ্গলের এই দাবি শুনে শ্রী সিমেন্টের কর্ণধার হরিমোহন বাঙ্গুর শুরুতে হেসে উঠলেন। এদিন, মঙ্গলবার প্রস্তাবিত সিমেন্ট প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে তাঁর মিটিংয়ের কথা থাকলেও, তা হয়নি। জানালেন, দু’একদিনের মধ্যেই তা হবে। আর ইস্টবেঙ্গলের এই চিঠি প্রসঙ্গে বললেন, “স্পষ্ট করে বলছি, চুক্তি মতো না চললে, আর এক টাকাও আমি ইস্টবেঙ্গলের পিছনে বিনিয়োগ করব না। একটা কথা পরিষ্কার জেনে রাখুন। আমি কখনও ইস্টবেঙ্গল ক্লাব জোর করে নিতে চাইনি। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধেই নিয়েছি। যদি সমস্যা হয়, ইস্টবেঙ্গলের যা কিছু আছে, সব কিছু ফেরত নিয়ে নিক। আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে টাকাটা আমি বিনিয়োগ করেছি, সেই টাকাটা আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এর বাইরে আমার আর কোনও সিদ্ধান্ত নেই।”