পণের টাকা না পাওয়ায় ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে হত্যা, গ্রেফতার স্বামী, শাশুড়ি, দেওর

92

কালিয়াগঞ্জ, ৪ আগস্টঃ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির বিরুদ্ধে। মৃত বধুর নাম পারভিন খাতুন (২১), স্বামী তাহিরুল হুসেন। বাড়ি কালিয়াগঞ্জ শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চিড়াইল পাড়ায়। কালিয়াগঞ্জ থানায় একটি হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে মৃতার স্বামী, শাশুড়ি ও দেওরকে।

জানা গেছে, বকেয়া পণের টাকা সময়মতো না পেয়ে বিয়ের ৮ মাসের মধ্যে নববধূকে হত্যা করে। রবিবার রাতে এই বধূর  অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার পর কালিয়াগঞ্জ শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কালিয়াগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগে মৃত বধুর বাবা মহম্মদ মুস্তফা অভিযোগ, গত ১৫ ডিসেম্বর তার মেয়ের বিয়ে হয় কালিয়াগঞ্জ শহরের উত্তর চিড়াইল পাড়ার বাসিন্দা তাহিরুল হুসেনের সঙ্গে। সামাজিক ভাবে এই বিয়ের সময় মোহরনামা স্থির হয়েছিল তিন লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ২.৫ লক্ষ টাকা বিয়ের সময় দেওয়া হয়। বাকি ৫০ হাজার টাকা কয়েকমাস পরে দেওয়ার কথাছিল। বিয়ের পর তার মেয়ে স্বামীর বাড়িতে ঘর সংসার শুরু করে।

মুস্তফাবাবুর অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকে পণের টাকার আনার জন্য শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা মেয়ের উপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার শুরু করে। তা জানতে পেরে কিছুদিন আগে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হয়৷ রবিবার রাত ৮টা নাগাদ পুলিশ তাদের খবর দেয় যে তাদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

সেই খবর পেয়েই কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালে ছুটে আসেন তারা। হাসপাতালে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। যারা এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে মৃতার কাকা হাসান আলী। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।