সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা সিবিআই-র,কলকাতা হাইকোর্টে ফিরল নারদ মামলা

127

ওয়েব ডেস্ক, ২৫ মেঃ নারদ মামলায় ব্যাকফুটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেও তা তুলে নিল সিবিআই। এদিন নারদ মামলার শুনানি শুরুর পরেই সিবিআই আইনজীবী তথা কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারলেকে মামলা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেন সর্বোচ্চ আদালতের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

সেই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা । কিছুক্ষণ পরেই মামলা তুলে নেওয়ার কথা জানান তিনি। দেশের শীর্ষ আদালত থেকে এরপর মামলা প্রত্যাহার করে নেয় সিবিআই। এবার শুধুমাত্র কলকাতা হাইকোর্টেই ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়দের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

সেই সওয়ালের প্রেক্ষিতে বিচারপতি বিনীত সরণ এবং বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের অবসরকালীন বেঞ্চের তরফে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে আমরা ধরনার প্রশংসা করি না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী নিজেদের হাতে আইন তুলে নেন, তাহলে কি অভিযুক্তদের হয়রানির শিকার হওয়া উচিত?’

মঙ্গলবার প্রায় ঘণ্টাদুয়েকের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয় সিবিআই। শেষে বিচারপতি বিনীত সরণ এবং বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের অবসরকালীন বেঞ্চের তরফে জানানো হয়, কোনও রায় দেওয়া হচ্ছে না। বেঞ্চ বলেছে, ‘সলিসিটর জেনারেল মেনে নিয়েছে যে কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সবদিক বিবেচনা করছে। তাই আবেদন প্রত্যাহার এবং এরকম বিষয়গুলি হাইকোর্টের সামনে তোলার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।’ তার ভিত্তিতে কোনও রায় দেয়নি শীর্ষ আদালত।

নারদ মামলায় চার নেতাকে গৃহবন্দি রাখার যে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট, তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে সিবিআই। সেই মামলার শুনানিতে আগামী শুক্রবার মামলার শুনানির আর্জি জানান মেহতা। তিনি দাবি করেন, ‘এটা আবার শুক্রবার হোক। আমার মনে হয় না, রাজ্যের কিছু বলার আছে। ওদের শুধুমাত্র ঝামেলা পাকাতে নিয়ে আসা হয়েছে।’ তাতে বেঞ্চের তরফে বলা হয়, ‘আপনাদের আর্জির ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিষয়টির শুনানি হচ্ছে।’ তারইমধ্যে মামলাটি স্থানান্তর করার আর্জি জানান সিবিআইয়ের আইনজীবী।

পালটা সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়, ‘আমরা যদি এটা স্থানান্তরিত করে দিই, তাহলে তা হাইকোর্টের মনোবলে ধাক্কা দেবে।’ প্রত্যত্তরে মেহতা বলেন, ‘আমি বলছি না যে আমরা হাইকোর্টকে বিশ্বাস করি না। আমরা বলছি যে রাজ্যের বাইরে স্থানান্তর করে দিন। রাজ্যকে বিশ্বাস করা যায় না।’