চুক্তি বাতিলের পথে নেপাল, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে গোর্খাদের অংশগ্রহণের চুক্তি নিয়ে আপত্তি

362

ওয়েব ডেস্ক, ১ আগস্টঃ সীমান্ত সংকট দূর করতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলোচনায় বসার জন্য ভারতের উদ্দেশে বার্তা দিলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী প্রদীপ গ্যাওয়ালি। কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত সুন্দরী চিনা রাষ্ট্রদূতের ইশারাতেই নাকি এখন কাজ করছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ সেই অভিযোগ যে খুব মিথ্যা নয়, তা প্রমাণ করেই এবার ভারতীয় সেনায় গোর্খাদের নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের পক্ষে ফের সরব হয়েছে নেপাল

এদিন নেপালের বিদেশমন্ত্রী প্রদীপ গ্যাওয়ালি বলেন, “কালাপানিতে সীমা বিবাদ নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে সেই প্রস্তাবের কোনও ইতিবাচক জবাব দেয়নি ভারত।” তাঁর অভিযোগ, বেশ কয়েক বার বলা সত্ত্বেও এই বিষয়ে কাঠমান্ডুর প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ভারত সরকার।

গতকাল নেপাল ইন্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস আয়োজিত এক ওয়েবিনারে নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা সংঘর্ষে পরিণত হওয়ার আগে আমরা এখনও ভারতকে সমাধানের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বৈঠকে বসতে বলছি। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় সেনার একটা মজবুত অঙ্গ হচ্ছে গোর্খা বাহিনী। নেপালের এই যোদ্ধাদের গোটা বিশ্বে জুড়ি মেলা ভার। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর নেপাল, ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়। এতে চারটি গোর্খা রেজিমেন্টকে ব্রিটিশ আর্মি থেকে ইন্ডিয়ান আর্মিতে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে ভারতের সাতটি গোর্খা রেজিমেন্ট, আসাম রাইফেলস-সহ সেনাবাহিনীর ৪০টি ব্যাটালিয়নে ৪০ হাজারের মতো নেপালি নাগরিক কর্মরত। আর সেই বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়ে নয়াদিল্লিকে চাপে ফেলতে চাইছে ওলি প্রশাসন। এবার আইন করে সেই চুক্তি বাতিল করতে চাইছে কাঠমান্ডু। তা যদি হয়, তাহলে নেপালের গোর্খারা আর ভারতীয় সেনাবাহিনী বা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন না। বর্তমানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ৩ হাজার ৬০০ নেপালি সৈনিক রয়েছে।

তবে বিষয়টি যে এই প্রথম উঠে এসেছে তা নয়। ২০১৮ সালে নেপালের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির তাগিদে কেন্দ্রের গঠিত টাস্কফোর্স নেপালি তরুণদের বিদেশি বাহিনীতে যোগদান নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছিল। তবে সেসময় বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু চিনের উসকানিতে এবার ফের গোর্খা সৈনিকদের নিয়ে সরব হয়েছে নেপাল।