রাজ্যের সরকারের নতুন পদক্ষেপ, হাতের নাগালে সমবায় ব্যাঙ্ক পরিষেবা পাবেন

363

ওয়েব ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বর: মোদি জমানায় একের পর এক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে কার্যত পগার পার হয়ে গিয়েছেন। সেই সব অনাদায়ী ঋণের জেরে ধুঁকতে শুরু করেছে দেশের বেশ কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক। ঠিক এই অবস্থায় এই রাজ্যে কার্যত বৈপ্লবিক এক পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যেয়ের সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র শুক্রবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সমবায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই এবার শাখা খুলবে সমবায় ব্যাঙ্ক। এদিন উদ্বোধন করতে গিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন, ‘দেশের সব গ্রাম পঞ্চায়েতে এখনও ব্যাঙ্ক পৌঁছাতে পারেনি। দেশের সরকার কার্যত ব্যার্থ হয়েছে গ্রামের মানুষের কাছে ব্যাঙ্ক পরিষেবাকে পৌঁছে দিতে। এই রাজ্যের ছবিটা কিন্তু আলাদা হতে চলেছে খুব শীঘ্রই। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়ের ৫ কিমির মধ্যে সমবায় ব্যাঙ্কের শাখা খোলা হবে। এর জন্য সেই সব গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকেই প্রধান্য দেওয়া হবে যেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক পৌঁছাতে পারেনি বা তাঁদের কোনও শাখা ‘প্রয়োজনে পঞ্চায়েত কার্যালয়েই এই শাখা খোলার কথা ভাবা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে সাধারন মানুষের অনেক অভাব অভিযোগ আছে। সেই তুলনায় এই রাজ্যে কিন্তু সমবায় ব্যাঙ্ক খুব ভালো কাজ করেছে। ইতিমধ্যেই সমবায় ব্যাঙ্ক কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট তৈরি করে ফেলেছে। সেই সব সার্ভিস পয়েন্ট থেকে কৃষকেরা ঋন পাচ্ছেন। তাঁরা সেই ঋন সময়মতো শোধও করছেন। গত ৫ বছরে সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋন দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা প্রায়শই দেখতে পাচ্ছি দেশের নামীদামী ব্যবসায়ী থেকে শিল্পপতিরা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋন নিয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালাচ্ছেন। আমাদের রাজ্যে সমবায় ব্যাঙ্কের কোনও গ্রাহককে নিয়ে কিন্তু কোনও সমস্যা হয়নি। যদি আমরা রাজ্যের সব পঞ্চায়েতে সমবায় ব্যাঙ্ককে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে আমরা দেশের থেকেও কিছুটা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাব। মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধন্ত নিয়েছেন। আগামী দিনে তাই রাজ্যের সব গ্রাম পঞ্চায়েতে সাধারন মানুষ সমবায় ব্যাঙ্কের শাখা ও পরিষেবা দুটোই পেয়ে যাবেন।’