জিয়াগঞ্জ কান্ডে নতুন মোড়, আটক বাবা সহ ৪

4547

মুর্শিদাবাদ, ১২ অক্টোবরঃ জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়। শুক্রবার বিকেলে একবার হানা দেয় পুলিশ। তারপর রাতেও ফের নিহত শিক্ষকের বন্ধু সৌভিক বণিকের বাড়িতে হানা দেয় উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা। দফায় দফায় তল্লাশির পর ৪ জন অভিযুক্তকে আটক করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ২ জনকে ছাড়া হয়। এখনও ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযুক্তের হদিশ পেতে শহরের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের জানা গেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা টাকাপয়সার লেনদেনের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আটক করা হয়েছে নিহত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশের বাবাও। বাবা ছেলের সম্পর্ক ভাল ছিল না বলে দাবি পরিবারের। তার ভিত্তিতেই ঋণ তত্ত্বের পাশাপাশি উঠে এসেছে পারিবারিক কলহের বিষয়টিও। শুক্রবার বিকেলে প্রথমে রামপুরহাটের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সৌভিক বণিকের বাড়িতে যায় মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ। সৌভিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার ঘর থেকে কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করে।

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের কানাইগঞ্জ লেবুবাগানের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল। স্ত্রী বিউটি ও ছ’বছরের ছেলের সঙ্গে থাকতেন তিনি। দশমীর দুপুরে ওই ঘর থেকেই তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। খুনের ঘটনায় তদন্তে নামে জিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্তে খুনের পিছনে আর্থিক লেনদেন, পারিবারিক কলহ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকতে পারে বলে মনে করেন তদন্তকারীরা। এরপরই জেরায় উঠে আসে সৌভিক বণিক নামে মৃত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের এক বন্ধুর নাম।

মৃত বিউটি পালের মা জানান, চড়া সুদে ধার করে অন্তত ৭-৮ লক্ষ টাকা সৌভিককে দিয়েছিলেন তাঁর জামাই। তবে টাকা ফেরত দিতে চাইত না সৌভিক। টাকা ফেরতের কথা বললে প্রাণনাশের হুমকিও দিত সে। তাই তাঁর অনুমান, আর্থিক বিবাদের জেরে সপরিবারে খুন হতে হয়েছে তাঁর জামাইকে।

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্ধুপ্রকাশ পালের স্ত্রী বিউটি পালের আঘাত বেশি ছিল। এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে। বাড়িতে জোর করে ঢোকার কোনও প্রমাণ যদিও মেলেনি। ঘর থেকে হারায়নি কিছুই। অর্থাৎ পরিচিত কেউ থাকতে পারে বলে অনুমান। উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা নোট ও ডায়েরি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাজ্য পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক যোগ পাওয়া যায়নি। বন্ধুপ্রকাশ পালের বাজারে দেনা হয়ে গিয়েছিল। প্রতিহিংসার জেরেই খুন বলে প্রাথমিক অনুমান। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে, এদিন মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভ দেখানো হয় জিয়াগঞ্জ থানাতেও।