নিশীথের গড়ে বিজেপিতে ভাঙ্গন, তৃনমূলে ফিরলেন ১০ পঞ্চায়েত সদস্য

77

কোচবিহার, ১৭ সেপ্টেম্বরঃ ‘দিদিকে বলো’ জনসংযোগ কর্মসূচিকে হাতিয়ার করে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃনমূল। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে কোচবিহার জেলায়। সম্প্রতি দিনহাটা ও সিতাই বিধানসভা এলাকায় দিদিকে বলো কর্মসূচি সংগঠিত করে। সেখানে ওই কর্মসূচিতে ফলে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত ও অনেক নেতা নেতৃত্বরা ফের দলে ফিরে আসেন।

তার পর দিনহাটা ও সিতাই বিধানসভা এলাকায় ব্যাপক ভাবে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচী নেয় তৃনমূল। তারপর দিনহাটা শহর, ভেটাগুড়ি এলাকায় এনআরসি নিয়ে ধিক্কার মিছিলে ব্যাপক সারা মেলে। এই কর্মসূচি সফল হওয়ার পরেই ভেটাগুড়ি ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় তৃনমূল কর্মীরা তাদের মনোবল ফিরে পায়। ফলে তারা বিজেপি ছেড়ে ফের তৃনমূলে যোগদান করেন বলে দাবি স্থানীয় তৃনমূল নেতৃত্বের।

এরপরেই মঙ্গলবার সকালে  সিতাই  বিধানসভা কেন্দ্রের ভেটাগুড়ি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃনমূল কংগ্রেসের কনভেনার সুনীল রায় সরকার, আইনুল মিয়া হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে ওই ১০জন দলছুট প্রতিনিধি। দিনহাটা ও সিতাই  বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় যে ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করলেন দলের নেতা নেত্রীরা তারই প্রভাব পড়েছে এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশে। 

যোগদানের প্রাক মুহূর্তে পঞ্চায়েত সদস্যরা

লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গ্রাম গ্রামান্তরে বড় রকমের ভাঙন ধরে তৃণমূলে। তৃণমূলের দখলে থাকা বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত গুলি একে একে দখল করে নেয় বিজেপি। কিন্তু ঘাস ফুল পরিবর্তন করে বেশিদিন থাকতে পারলেন না ওই প্রতিনিধিরা। ফের ঘরের জনেরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। আর তাতেই তৃণমূলের পুনর্দখল হচ্ছে একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েত।

একি মোহভঙ্গ নাকি জোড়া জুড়ির খেলা! ঘটনা যাই হোক দিনাহাটা ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ইতিমধ্যে পুনর্দখল হয় তৃণমূলের। মঙ্গলবার ভেটাগুড়ি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রক্ষ্মানের চৌকি এলাকায় একটি বাড়িতে তৃনমূল কংগ্রেসের কনভেনার সুনীল রায় সরকার, আইনুল মিয়া নেতৃত্বে একটি আলোচনা সভা  করা হয়। সেই আলোচনা সভায় ভেটাগুড়ি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪জন পঞ্চায়েত প্রতিনিধির মধ্যে ১০জন বিজেপি থেকে তৃনমূলে ফিরে আসেন বলে নেতৃত্বের দাবী। এদিন তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন ভেটাগুড়ি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃনমূল কংগ্রেসের কনভেনার সুনীল রায় সরকার, আইনুল মিয়া।

ভেটাগুড়িতে ধিক্কার মিছিল তৃনমূলের

এদিন এবিষয়ে ভেটাগুড়ি ২নং অঞ্চলের তৃনমূল কংগ্রেসের কনভেনার সুনীল রায় সরকার, আইনুল মিয়া বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের পর তৃনমূলের প্রতীকে জয়ী হওয়া ৭জন ও নির্দল চিহ্নে জয়ী হওয়া ৭জন পঞ্চায়েত প্রতিনিধি মোট ১৪জন সদস্য/সদস্যাদের বিজেপি আশ্রিত সমাজ বিরোধীরা তাঁদের ভয় দেখান। বিজেপির দুষ্কৃতীদের ভয়ে নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা বিজেপির পতাকা নিতে বাধ্য হয়েছিল।  ৪ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর এখন তাঁদের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে। তাই তারা আবার তৃনমূলে ফিরে এসেছে।’

এবিষয়ে কোচবিহার জেলার সহ সভাপতি ব্রজগোবিন্দ বর্মণ বলেন, কিছুদিন আগে তারা তৃনমূল ছিলেন। তারপর তারা জানিনা কি কারনে বিজেপিতে যোগদান করলেন। ফের তারা সেখান থেকে তৃনমূলে ফিরেছেন। এবিষয়ে কিছু বলার নেই। কে কোথায় যাবে তা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। আজ যারা বিজেপি ছেড়ে তৃনমূল যাচ্ছে। আবার দুদিন পর তারা যে বিজেপিতে ফিরে আসবে না তা কেউ বলতে পারে ? তবে এটুকু বলব গণতান্ত্রিক অধিকার সকলের আছে। ভেটাগুড়ির শান্তিপ্রিয় মানুষ যাতে এলাকার শান্তি বজায় রাখে এই আহ্বানেই করছি।

লোকসভা নির্বাচনের সময় নিশীথ প্রামাণিক (সংগৃহীত ছবি)

প্রসঙ্গত,পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় তৃনমূল যুব কংগ্রেস ও মাদার তৃনমূল কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব ছিল প্রবল। সেই দ্বন্দ্বের কারনে প্রাক্তন যুব তৃনমূল কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক নিশীথ প্রামানিক অনুগামীরা নির্দল হয়ে তৃনমূল কংগ্রেসের সাথে লড়াই করেন নৌকা সহ বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে। তাতে ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে তৃনমূল যুব কংগ্রেস। এর মধ্যে অন্যতম হল ভেটাগুড়ি ২নং গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখানে ১৪টি আসনের মধ্যে নির্দল(যুব) আসন পায় ৭টি, তৃনমূল কংগ্রেস পায় ৭টি। পঞ্চায়েত গঠনের সময় তৃনমূল কংগ্রেসের ৭জন সদস্য যুবদের হাত ধরে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে।

তারপর তৃনমূল যুব কংগ্রেসের কোচবিহার জেলার প্রাক্তন সাধারন সম্পাদক নিশীথ প্রামাণিককে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে যুব তৃনমূল কংগ্রেসে সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়। তারপর নিশীথ প্রামানিক বিজেপির দিল্লি কার্যালয় যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। তারপর একের পর এক নিজের হাতে থাকা দিনহাটা ও সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত তৃনমূল কংগ্রেস হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বিজেপির নিয়ে আসেন। তৃনমূল একে বাড়ে কোনঠাসা হয়ে পড়ে।

দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে যোগদানের পর (সংগৃহীত ছবি)

তারপর প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি জনসংযোগ যাত্রা শুরু করেন। সেই ফাকে কোচবিহার জেলার সভাপতি পরিবর্তন করে ‘দিদিকে বলো’ জনসংযোগ যাত্রার মধ্যে দিয়ে তৃনমূল কংগ্রেস একটা গুড ফিল্ট তৈরি করে ফেলে। তার জেরে কোচবিহার জেলায় ঘাস ফুলের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত গেরুয়া শিবির দখল করেছে তা ফেরত নিতে শুরু করে। এমত অবস্থায় বিজেপি সাংসদ তার নিজের এলাকায় দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে রেখেছেন। তার মধ্যে একটি আজ হাত ছাড়া হয়ে গেল বলে দাবি তৃনমূলের।

বিজেপি ছেড়ে তৃনমূলে যোগদানের সময় ( নিজস্ব ছবি)

কিন্তু ৪ মাস হতে না হতেই তাঁদের মোহভঙ্গ হয়েছে। তাই মঙ্গলবার সকালে ওই দলছুট ১৪জনের মধ্যে ১০ জন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আবার তৃনমূলে ফিরে আসে। তার ফলে এই গ্রাম পঞ্চায়েতটিও ফের তৃণমূলের দখলে আসলো বলে দাবী তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের।