সরকারি কোন সাহায্য পাননি, মেয়ের চিকিৎসার অনেক খরচ, নিরুপায় হয়ে মেয়েকে কাঠের খাঁচায় বন্দি করে রাখল মা-বাবা

114

মাথাভাঙ্গা, ১৪ জুলাইঃ সরকারি সার্টিফিকেটে ৭৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ্য থাকলেও কোনও রকম সরকারি সাহায্য জোটেনি কোচবিহারের মাথাভাঙার মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী ঝিলিক বর্মনের। ফলে হত দরিদ্র বাবা সামর্থ্য হয়নি চিকিত্সা করানোর। আসুস্থ মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাকে কাঠের খাঁচায় বন্দি করে রেখেছেন বাবা-মা। ঝিলিকের বাবা শ্যামল বর্মন দিনমজুর। বাড়ির বড় ছেলে শিবু বর্মন কলজে পাঠরত। সংসারের খরচ চালিয়ে ঝিলিকের চিকিত্সা করানো রীতিমতো দুস্কর হয়ে উঠেছিল পরিবারের কাছে।

জন্মের পর থেকে মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন ঝিলিকের মা সুচিত্রা বর্মন। বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারলেও ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারে না ওই কিশোরী। জন্মের পর থেকে হাত-পা একবারে শীর্ণ, বেঁকে গিয়েছে কোমর। বাড়ি থেকে যখন তখন বেরিয়ে পড়ে, রাস্তায় চলে যায়, নোংরা খেয়ে ফেলে। ফলে মেয়েকে খাঁচাবন্দি করে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা, বলে জানিয়েছেন সুচিত্রা দেবী।

কিশোরীর মা সুচিত্রা বর্মন জানিয়েছেন, কিছু জমিজমা বিক্রি করে বেঙ্গালুরু ও উদয়পুরে গিয়ে চিকিত্সা করানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। এরপরও চিকিত্সা চালিয়ে যেতে হলে চাই সরকারি সাহায্য, যা পায়নি এই বর্মণ পরিবার। এমন উপায়হীন আসহায় এক অবস্থায় ওই কিশোরীর দিন কাটছে কাঠের খাঁচাতেই।

কিশোরীর মা সুচিত্রা বর্মন আরও জানান, নিরুপায় হয়ে মেয়েকে খাঁচাবন্দি করে রাখতে হয়েছে। টাকাপয়সার  অভাবে  চিকিৎসা করতে পারছি না। তবে এখনও আশা আছে সরকারি কোনো সাহায্য বা কোনো সংস্থা থেকে সাহায্য মিলবে। মেয়েকে হয়তো সুস্থ করে তুলতে পারব।