‘বিহারে এনআরসি চালু করার প্রশ্নই ওঠে না’ বিধানসভায় জানিয়ে দিলেন নীতীশ কুমার

96

ওয়েব ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারিঃ বিহারে এনআরসি কর্মসূচি রূপায়ণের কোনও প্রশ্নই নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন নীতীশ কুমার। বিজেপির শরিক দল জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বলেছেন, ‘বিহারে এনআরসি চালু করার প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া গোটা দেশে এনআরসি চালুর কোনও প্রয়োজন নেই। কোনও যৌক্তিকতাও নেই। কেননা, শুধুমাত্র অসমের জন্যই এনআরসি করা হয়েছিল। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তো জানিয়ে দিয়েছেন, গোটা দেশে এনআরসি চালু করার কোনও পরিকল্পনা নেই। তাই এনআরসি কার্যকর করার প্রশ্ন উঠছে কেন?’ আর বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর এমন অবস্থানে যথেষ্টই অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা সুশীলকুমার মোদি জোট শরিক দলের নেতা নীতীশের মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।

সংসদের দুই কক্ষেই জেডিইউ সাংসদরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে সমর্থন জানানোর পরেই দলের অন্দরে বিদ্রোহ দেখা দেয়। জেডিইউয়ের অন্যতম সহ সবাপতি ভোটকুশলি প্রশান্ত কিশোর ও সাধারণ সম্পাদক পবন ভার্মা দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব হন। পরে নীতীশের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোর বৈঠক করে কেন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসির বিরোধিতা করা উচিত তা যুক্তি দিয়ে বোঝান। দলের অন্যতম সহ সভাপতির সঙ্গে বৈঠকের পরেই নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিহারে কোনওমতেই এনআরসি কার্যকর হবে না। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে নীরব ছিলেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে গোটা দেশ জুড়ে যে অশান্তি আর ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তা নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন জেডিইউ নেতা। তাঁর কথায়, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রের উচিত সিএএ নিয়ে ফের সংসদে আলোচনা করা। কেন এবং কী কারণে ক্ষোভ, তা অনুসন্ধান করা উচিত।’ বিহারের সব রাজনৈতিক দল রাজি থাকলে বিধানসভায় সিএএ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন নীতীশ। কয়েক দিন আগেই বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুশীলকুমার মোদি ঘোষণা করেছিলেন, আগামী ১৫ থেকে বিহারে এনপিআর-এর কাজ শুরু হবে। চলবে ২৮ মে পর্যন্ত। কিন্তু সেই প্রসঙ্গে এদিন কোনও মন্তব্য করেননি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।