রাজস্থান নয়! নদীয়ার শান্তিপুরেই দেখা মিললো উটের

115

মলয় দে নদীয়াঃ রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎই থমকে যেতে হলো এক দৃশ্য দেখে। রাস্তার পাশেই একটি উট শুয়ে শুয়ে তার খাবার চিবোচ্ছে, আর বাচ্চারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। খানিকক্ষণের জন্য ঘাবড়ে গিয়ে মনে হলো রাজস্থানে এসে পৌঁছে গেলাম নাকি। তারপরে দেখলাম না, এ তো মরুভূমি নয়, চারপাশে প্রচুর বড় জলাশয় মানে খালবিল রয়েছে। তখন বুঝলাম, না এটা রাজস্থান নয়, এটা শান্তিপুর। জায়গাটার নাম হিমায়েতপুর গ্রাম, জায়গাটি হরিপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। রাজস্থানের উট নদীয়ার শান্তিপুরের মাটিতে, অপেক্ষায় কুরবানীর।

শান্তিপুর হরিপুর পঞ্চায়েতে হেমায়েতপুর গ্রামের আব্দুল রহিম ব্যবসায়িক কারণে বেশ কিছু বছর যাবৎ থাকে মুম্বাইতে। বাবা ঐ গ্রামের, ধর্মপ্রাণ হাজীসাহেব বলে পরিচিত। প্রতিবছরই স্ত্রী-পুত্র নিয়ে কুরবানি ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে  কিছু দিন কাটান আত্মীয়-পরিজনদের সাথে। তিনিই আমাদের জানালেন কুরবানীর ইতিহাস।

কথিত আছে কোনো এক সময় আল্লা তার এক ভক্তকে বলেছিলেন তোমার সবথেকে দামী জিনিস তুমি আমার কাছে কুরবানী দেবে। তখন সেই ব্যক্তি নিজের সমস্ত ধনসম্পত্তি কুরবানী হিসেবে দিয়ে সকলের মধ্যে বিলিয়ে দেন। কিন্তু আল্লা তাতে খুশী হন না এবং তাকে নির্দেশ দেন নিজের সবথেকে প্রিয় জিনিস কুরবানী দিতে হবে। ঐ ব্যক্তি তখন তার সবথেকে প্রিয় জিনিস নিজের সন্তানকেই কুরবানী দিতে রাজী হয়ে যান। কিন্তু কুরবানী দেওয়ার সময় তিনি ছুরি চালিয়েও কিছুতেই ছুরি দিয়ে তার সন্তানকে কাটতে পারেন না। তখন তার সন্তান বলেন, আব্বা, আমরা দুজনেই চোখ বেঁধে নিলে আমাদের প্রেম আর আমাদের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, তখন তুমি আমাকে কাটতে পারবে। সেই কথামতো তারা চোখ বেঁধে নেন এবং কুরবানী দেন। কিন্তু চোখ খুলে দেখেন দুম্বা বলে একটি পশু কেটে দি টুকরো হয়ে পড়ে রয়েছে আর ওনার সন্তান পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তখন আল্লা তাকে নির্দেশ দেন প্রতিবছর কুরবানী ঈদের দিন এভাবেই পশু কুরবানী দিয়ে সকল গরীব মানুষকে মাংস খাওয়ানোর। যারা মাংস কিনে খেতে পারে না তাদের মধ্যে মাংস বিলি করাই কুরবানীর উদ্দেশ্য। এটাই হলো কুরবানী প্রথার ইতিহাস। তিনি প্রতিবছরই ছাগল দুম্বা কিনে নিয়ে আসেন, মাংস বিলানোর জন্য। ক্রমেই বাড়ছে, গ্রামের জনসংখ্যা তারপর আবার লকডাউনে বা রাজ্যের বাইরে কাজ করতে যাওয়া গ্রামের ছেলেরা সব বাড়িতে। তাই এবছর ছাগল বা মাংসে ঘাটতি পড়বে মনে করে, আস্ত একটা উট কিনে নিয়ে আসলেন মালদা থেকে।

আব্দুল রহিম জানান, অনলাইনে সার্চ করে মালদায় এক ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ হয়, তার দেওয়া সময় অনুযায়ী এখানে চারটি উটের মধ্যে সবচেয়ে বড় টা লক্ষ টাকা দিয়ে কিনি, মালদা থেকে শান্তিপুর গাড়ি ভাড়া নামানো উঠানোর লোকলস্কর বাবদ লেগে গেছে আরো প্রায় কুড়ি হাজার টাকা। রাস্তা খারাপের কারনে অনেক দূরের পথ পেরিয়ে, সে উটটি একটু ক্লান্ত হয়ে গেছে। দু এক দিন যত্নে থাকলে তাজা হয়ে উঠবে! সেই কারনেই কুরবানী ঈদের এক সপ্তাহ আগে কিনে নিয়ে এসেছি। এই গ্রামে কখনো এতো বড় উট আসে নি কোনদিন, শুধু এই গ্রামে বা কেন পাশাপাশি বহুগ্রাম থেকে উৎসাহী মানুষের ভিড় জমেছে উট দেখতে। তবে পরিবারের রীতি অনুযায়ী জানানো হয় ঈদের দিন মাংস নিতে এসে কেউ ফিরবে না! আমাদের সামনেই ওনাদের কথা হয় বনদপ্তরের সঙ্গে। সেখান থেকেও অনুমতি মেলে। বলা হয়, উট গৃহপালিত পশুর মধ্যেই পড়ে।   দুধ বা মাংস খাওয়ার জন্য গৃহপালিত পশুকে হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। তাই আইনের দিক থেকে কোনো বাধা নেই।