মাথাভাঙ্গা ও শীতলখুচিতে এনআরসি ও সিএএ প্রত্যাহারের দাবিতে ‘অবস্থান বিক্ষোভ’ শুরু করল তৃণমূল

176

কাজল রায়, শীতলকুচিঃ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার স্বেচ্ছাচারী’তার অভিযোগ ও এনআরসি এবং সিএএ প্রত্যাহারের দাবিতে কোচবিহার জেলা জুড়ে অবস্থান সত্যাগ্রহ শুরু করল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। শনিবার শীতলকুচি বিধানসভার শীতলখুচি বন্দর, গোলকগঞ্জ চৌপতি এবং মাথাভাঙ্গা পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় দলের এই ‘অবস্থান সত্যাগ্রহ’ করা হয়।

এদিনের ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, শীতলকুচি বিধায়ক হিতেন বর্মন, কোচবিহার জেলার যুব সভাপতি বিষ্ণুব্রত বর্মন, এসসি/এসটি/ ওবিসি সেলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পরেশ বর্মন, তৃণমূল নেতা সাহের আলী, শ্রমিক নেতা আলীজার রহমান, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মদক্ষ অশোক রায় সহ আরও অনেকে। তিন স্থানেই প্রচুর নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এদিন সর্বত্র ‘নো এনআরসি নো সিএএ’, ‘এনআরসি, সিএএ লজ্জা’ লেখা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে ‘অবস্থান সত্যাগ্রহে’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান দলীয় নেতা, কর্মীরা। কোনও অবস্থাতেই এই রাজ্যে এনআরসি লাগু করতে দেওয়া হবে না বলে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে।

এদিন মাথাভাঙ্গা পোস্ট অফিস মোড়ে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ বলেন, আমাদের শান্ত ভারতবর্ষকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে এনআরসি ও সিএএ করে। আমাদের পাশের রাজ্য অসমের কি অরাজগতা সৃষ্টি করেছে। সেখানে ১৯ লক্ষ ভারতীয়কে বঞ্চিত করেছে। এন আর সির নাম করে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করেছে সেখানে স্বামী ও স্ত্রীকে আলাদা আলাদা ক্যাম্পে দিয়েছে। এনআরসির নামে যে অরাজগতা তৈরি করতে চাইতেচ্ছে বিজেপি তার বিরুদ্ধে আমাদের নেত্রী মমতা বন্ধোপাধ্যায় আন্দোলন সংঘটিত করছে। তিনি বলেছেন জীবন দিয়ে হলেও আমরা এরাজ্যে এন আর সি করতে দেবনা। তার নির্দেশে আজ আমরা প্রত্যেক বিধানসভায় এই অবস্থান বিক্ষোভ করছে।        

অন্যদিকে শীতলকুচি বিধানসভার শীতলখুচি বন্দর এলাকায় এনআরসি, সিএএ বিরোধী অবস্থান সত্যাগ্রহে উপস্থিত শীতলকুচি বিধায়ক হিতেন বর্মন বলেন, বিজেপির এবং কেন্দ্রীয় সরকারের গণবিরোধী এই নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান চলছে। দু’শো বছর ইংরেজের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছেন তাদের উত্তরসূরীদের আজ ভারতীয় নাগরিক কিনা আজ প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমরা এনআরসির বিরুদ্ধে গোটা বিধানসভা এলাকায় লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি করব।