এনআরসি আতঙ্কে ফের মৃত্যু বসিরহাটে, বাংলায় মৃত্যু ৬

107

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: যতদিন যাচ্ছে ততই এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে পশ্চিম বাংলায়। রবিবার এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যাই করে বসলেন বসিরহাটের এক ব্যক্তি। কামাল হোসেন নামক ওই ব্যক্তির পরিবারের দাবি অন্তত তেমনটাই।

জানা গেছে, বসিরহাট ১ নং ব্লকের সোলদানা গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন কয়েকদিন ধরে জমির নথিপত্র নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পেশায় ইটভাটার শ্রমিক ওই ব্যক্তি বেশ কয়েকবার বিডিও অফিসেরও চক্কর লাগান। পাশাপাশি স্থানীয় নেতাদের কাছে সাহায্যের জন্য যান। কিন্তু কোথাও তেমন সুরাহা না হওয়ায় অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

কিন্তু হতাশা আতঙ্ক পরিবারটা লেখাপড়া না জানার জন্য হতাশাগ্রস্ত হয়ে আজ রবিবার ভোর বেলায় বাড়ির পিছনে আমবাগানে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে  আত্মহত্যা করে। পরে আমবাগানে থেকে কামাল হোসেন মন্ডল এর মৃতদেহ টি উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃতের বাবা শুকুর আলী বলেন, গতকাল বিকেল বেলায় কাগজপত্র সঠিক করার জন্য বসিরহাট ১’নম্বর বিডিওর কাছে এসেছিলো ওই ব‍্যাক্তি। তারপর ৭১ সালের আগে জমির দলিল ছিল কিন্তু হতাশাগ্রস্ত, আতঙ্ক, চিন্তা দুর্বিষহ করেছিল মন্ডল পরিবারের। তার স্ত্রী টুকটুকি বিবি, ছোট দুটি পুত্র সন্তান সহ এই শ্রমিক পরিবার একমাত্র জীবিকা নির্বাহ করতো। একমাত্র রোজগার শেষ সম্বল শেষ হয়ে গেল।

প্রসঙ্গত, গত ৩৬ ঘন্টায় হিঙ্গলগঞ্জ, মাটিয়া, বসিরহাট এলাকা মিলিয়ে মোট তিন জনের মৃত্যু হয়েছে, এনআরসির আতঙ্কে। এই ঘটনার পর গোটা উত্তর ২৪ পরগনা মানুষের মধ্যে ভীষণভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, মানুষ দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে কি হবে? এই এনআরসির পরে আমরা কি দেশে থাকতে পারবো? যদি না থাকতে পারি তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে ? এই চিন্তায় মানুষ বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এমনকি জীবনহানীও হচ্ছে। এছাড়াও জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি,দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট এবং মুর্শিদাবাদে এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যা এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃতদের পরিবারের দাবি ছিল, বাংলায় এনআরসি হতে পারে সেই আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের।