সিতাইয়ে এনআরসির আতঙ্কে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এক ব্যক্তির

985

সিতাই, ২৭ অক্টোবরঃ এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করল এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির নাম দেবেন বর্মন। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সিতাই ব্লকের কেশরীবাড়ি গ্রাম এলাকায়। ওই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ওই ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি উদ্ধার করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, অসমের এনআরসির পর পশ্চিম বাংলায় এনআরসি চালু হবে বারবার বলে আসছে রাজ্যে বিজেপির বিভিন্ন নেতারা। তা নিয়ে বাংলার গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দেবেন বাবুর নিজস্ব কোন জমি জামা ছিল না। তাই তাকে স্থানীয় লোকজন বলত এনআরসি হলে তোকে বাংলাদেশে পাঠান হবে। এই বলে নানান ভাবে ইয়ার্কি ফাজিলাম করত। তারপর আজ সকালে দেবেন বর্মন কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এবিষয়ে দেবেন বাবুর ছেলে গৌরব বর্মণের অভিযোগ, বাবাকে এলাকার লোকজন সবসময় ইয়ার্কি-ফাজলাম করত। কারন এন আর সি হলে না কি আমাদের বাংলাদেশ পাঠাবে। আমাদের কোন জমিজামা নেই, নেই কোন কাগজ পত্র। তাই গতকাল কে বা কারা বাবার সাথে ইয়ার্কি ফাজিলাম করেছে তা জানা নেই। আজ সকালে এনআরসির আতঙ্কে আমার বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।

অপরদিকে ওই ব্যক্তির আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান এসইউআইসি-এর দিনহাটা লোকাল কমিটির সদস্য আজিজুল হক। তিনি জানান, “এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যের লোকজন ভুগছেন। এরই মধ্যে অনেকে এখনও পর্যন্ত মারাও গিয়েছেন। এনআরসি আতঙ্কের ফলে সিতাইয়ের দেবেন বাবু আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও দাবি করে জানান, ‘কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে ভারতের কোথায় এনআরসি লাগু হবে না। তা নাহলে আমরা আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবো।’

এবিষয়ে সিতাই বিধানসভার কনভেনার নুর আলম হোসেন বলেন,“রাজ্যের বিজেপি নেতারা যেভাবে এনআরসি নিয়ে হুমকি দিচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তার জেরে সারা রাজ্যে প্রায় ১২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আমরা বাংলায় কোন দিন এন আর সি করতে দেবনা। আর দেবেন বাবুর এই ঘটনার জন্য বিজেপি দায়ী।”

এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিতাইয়ের বিজেপি নেতা প্রশান্ত বর্মণ বলেন,“ওই ব্যক্তির পারিবারিক ঝামেলার কারনেই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। ওই ব্যক্তির সাথে এনআরসির কোন সম্পর্ক নেই। রাজ্যে সরকার ও তার দলের নেতারা সাধারণ মানুষের মধ্যে এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এটা হলে দেশের উন্নতি ও সুরক্ষা সমৃদ্ধির বিষয়। দেশের এই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এনআরসি খুব জরুরি।”