বইমেলার প্রাঙ্গণ থেকে এনআরসি ও ক্যা বিরোধিতার ডাক সাধারনের

118

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনাঃ বইমেলা প্রাঙ্গন থেকে এনআরসই ক্যা বিরোধিতায় সোচ্চার হল সাধারন মানুষ।এমনই এক ছবি উঠে এল সুন্দরবনের সন্দেশখালি ১নং ব্লকের কানমারী মোহনবাগান ক্লাবের মাঠে আয়োজিত সুন্দরবন শিল্প, সংস্কৃতি ও বইমেলার প্রাঙ্গণে ।

বাঙালির বইয়ের প্রতি আবেগ চিরকালের। সেই বইয়েরই অন‍্যতম পীঠস্থান হল বইমেলা। বইয়ের পাশাপাশি বাঙালির ফ‍্যান্টাসি ও রোম‍্যান্টিসিজমের আর এক মঞ্চ বইমেলা। তাই কলকাতা সহ রাজ‍্যের বিভিন্ন শহরে এই মেলা একটি পরিচিত বিষয়। সেই জায়গায় দাড়িয়ে প্রত‍্যন্ত সুন্দরবনে বইমেলা যেন মানুষের কাছে এক বিস্ময়। আর সেই বইমেলার মঞ্চ থেকেই এনআরসি ও ক্যা বিরোধিতায় সরব হলো সুন্দরবনবাসী।

সন্দেশখালীর বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর নেতৃত্বে মেলা উদ্বোধনের আগে কানমারি বাজার থেকে কানমারি মোহনবাগান ক্লাবের মাঠ পর্যন্ত এনআরসি ও ক্যা বিরোধিতায় এক বিশাল মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে সুন্দরবনের আদিবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো‌। আদিবাসী অধ‍্যুসিত এই কানমারী গ্রামে বইমেলা যেন এক প্রকার উৎসবের চেহারা নেয়। এবারে ১৬তম বর্ষে পা দিল এই মেলা।

৭ দিন ব‍্যাপি এই বইমেলার উদ্বোধন করেন সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো, অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের সদস্য শিবপ্রসাদ হাজরা, সন্দেশখালী ১নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দনা মাহাতো, সন্দেশখালীর বিশিষ্ট সমাজসেবী আলমগীর শেখ  সহ অন্যান্যরা।

প্রসঙ্গত, মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই একাধিক বইয়ের স্টলের পাশাপাশি দেখা যায় সুন্দরবনের এক টুকরো শিল্প ও সংস্কৃতির ছোঁয়া । দেখা মেলে পাতা ও ঝুমুর নাচের, মাদল ও খোলের আওয়াজের মুখরিত হয়ে থাকে পরিবেশ। এসবের পাশাপাশি বাংলার হারিয়ে যেতে বসা বিনোদন শিল্প যাত্রাপালাও এখানকার অন‍্যতম আকর্ষণ। সব মিলিয়ে বাংলার এক টুকরো শিল্প সংস্কৃতির অন‍্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই বইমেলা।