আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম সহ তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

11

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা: আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম সহ তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার রাতে লাল বাজারের গুন্ডা দমন শাখা এবং বসিরহাট থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে হদিশ মেলে অস্ত্র কারখানার। কারখানা থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি ওয়ান শটার, সাতটি অসমাপ্ত ওয়ান শটার-সহ অস্ত্র তৈরির মেশিন, সরঞ্জাম এবং প্রচুর পরিমাণে কাঁচামাল।

গোয়েন্দা সুত্রে জানা যায়, ধৃতদের নাম শামসের আলম (৫০) মহম্মদ ফিরোজ(৩০)। এই দুজনের বাড়ি বিহার মুঙ্গের এলাকায়। এবং অপরজন শফিকুল গাজী মিজা। গোপনডেরা বেধে ছিল অস্ত্র তৈরি করার জন্য।

কলকাতা পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল গত ছয়দিন আগে বিহার মুঙ্গের থেকে ২ ব্যবসায়ী ওখানে অস্ত্র তৈরি করার কারখানার তৈরি করেছে। বিভিন্ন সরঞ্জাম এনে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছে। আজ বুধবার রাত্রিবেলা কলকাতা পুলিশের ১০ জনের একটি দল ও মিনাখা থানার সাতজন পুলিশ মোট ১৭ জনের বিশাল পুলিশ বাহিনী অভিযান চালায়।

মিনাখাঁ ৪ নম্বর চৈতালে ওই গোপন ডেরা থেকে, বিহারের ওই দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী সহ আরো একজনকে, যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। সেখানে অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া যায়। অস্ত্র তৈরি করার জন্য মেশিন, নাট, বল্টু, লোহার রড, প্লাস,স্ক্রু ড্রাইভার,গ্যাস কাটার, উদ্ধারের।

পাশাপাশি দুখানা কমপ্লিট ওয়ান শাটার, সাতটি  আন কমপ্লিট ওয়ান শাটার উদ্ধার করে পুলিশ। এদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ আছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কেন বিহার থেকে এখানে এসে অস্ত্র তৈরি করেছিল, সেগুলি আবার কি বিহারে নিয়ে যাচ্ছিল কিনা ? সেটাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বিহারের মুঙ্গের ছিল অস্ত্র কারবারিদের মুক্তাঞ্চল। সেই মুঙ্গেরেই তৈরি হত দেশি ‘ঘোড়া’। যা এখন ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সর্বত্র। কিন্তু সেই দেশি ঘোড়ার দাম অনেকটাই চড়া। কিন্তু দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এইসব অস্ত্রের দাম অনেকটাই কম। যারা নিখুঁত দক্ষতায় এই অস্ত্র বানিয়ে ফেলে, তাদের বলা হয় ‘ইঞ্জিনিয়র’। এটাই অস্ত্র কারবারিদের সাংকেতিক নাম।

গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে দেশে ঢোকা চিনা নাইন এমএম পিস্তলের দাম পড়ে যায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। সেখানে মুঙ্গেরি ইঞ্জিনিয়রদের তৈরি নাইন এমএম পিস্তল পাওয়া যায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজারে। স্বাভাবিকভাবেই সেই অস্ত্রের চাহিদা বেশি।