কোচবিহারের দেহ সৎকারে পুলিশের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা, ফেসবুকে উল্লেখ ৩ ঘটনার

426

কোচবিহার, ২ আগস্টঃ করোনা আতঙ্কের জেরে কোচবিহারের তিন দেহের সৎকারে পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট। আজ কোচবিহার জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে ওই পোস্ট করা হয়েছে। ওই তিন ঘটনার উল্লেখ করে পুলিশ যে করোনা আবহে সব ধরনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে, সেটা যেমন জানানো হয়েছে। তেমনি জেলার বাসিন্দাদের আবেদন করে জানানো হয়েছে, লড়াইটা আসলে করোনার বিরুদ্ধে, করোনা রোগীর বিরুদ্ধে নয়। তাই পুলিশের সাথে সহযোগিতা করার পাশাপাশি মাস্ক পড়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

কোচবিহার জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে প্রথম যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের এক কিশোরকে। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন ওই কিশোর। কিন্তু লকডাউন ঘোষণার পর সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে কোচবিহারের এক আত্মীয়ের বাড়িতে ফেরার সময় ওই কিশোর রাস্তাতেই মারা যায়। তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এরপর পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে নিউ কোচবিহারে অনেক বাঁধা সামলে সেই দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করে।

দ্বিতীয় ঘটনা পুন্ডিবাড়ির। সেখানে এক বৃদ্ধা বয়স জনিত কারনে মারা যান। কিন্তু তাঁর পরিবারের কয়েকজন করোনা সংক্রমণ থাকায় ওই বৃদ্ধার সৎকারের জন্য এলাকার কেউ এগিয়ে আসেন নি। এরপর পুন্ডিবাড়ি থানার ওসি মহিম অধিকারির নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম কোচবিহার ২ নম্বর ব্লক প্রশাসনের কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে ওই বৃদ্ধার দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করে।

এরপরের ঘটনা দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার খুট্টিমারি গ্রামের। সেখানকার এক বৃদ্ধ কোচবিহার কোভিড হাসপাতালে মারা যান।এরপর তাঁর সৎকার করা হয় কোভিড নিরাপত্তা মেনে। মানা হয় ধর্মীয় রীতিও। সেখানে নেতৃত্ব দেন সাহেবগঞ্জ থানার ওসি। পাশে ছিলেন মহকুমা শাসক, বিডিও, এসডিপিও দিনহাটা সহ পুলিশের একাধিক আধিকারিক। 

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথম থেকেই সক্রিয় পুলিশ। লকডাউনের শুরুতে মানুষকে ঘরবন্দী রাখতে যেমন লাঠি হাতেও পথে নামতে দেখা গিয়েছিল। তেমনি টানা লকডাউনে বিপদে খাদ্য সঙ্কটে পড়া মানুষদের পাশেও দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। এবার দেহ সৎকারের মত কাজের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে দেখা পুলিশকে।