নিষিদ্ধপল্লী থেকে বিহারের এক নাবালিকাকে উদ্ধার করলো পুলিশ

30

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ মালদায় শহরের নিষিদ্ধপল্লী থেকে বিহারের এক নাবালিকাকে উদ্ধার করলো ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। এইদিন দুপুরে মালদা শহরের  নিষিদ্ধ পল্লীতে আচমকা অভিযান চালায় ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই অভিযানে ইংরেজবাজার মহিলা থানার পুলিশ অফিসারেরাও সামিল হয়েছিলেন।  নিষিদ্ধপল্লীর একটি বাড়ি থেকে ঘর বন্দী অবস্থায় ১৫ বছর বয়সী ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

যদিও পুলিশি অভিযানের আগাম খবর পেয়ে ওই বাড়ির মালিক ও অন্যান্য সদস্যরা গা ঢাকা দেয়।ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে।  গোটা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে মালদায় নারী পাচার চক্র সক্রিয় তা আরো একবার পুলিশের এই অভিযানে সামনে উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের একটি সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপেই কোনো একটি মাধ্যম থেকে বিহারের  ওই নাবালিকাকে বিক্রি করে দেওয়ার তথ্য আসে‌। জানা যায় মুর্শিদাবাদের ওই নাবালিকাকে বিক্রি করা হয়েছে। এরপর শিশু সুরক্ষা কমিশনের কর্তারা মুর্শিদাবাদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিভিন্ন সূত্র ধরে পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন ওই নাবালিকা মুর্শিদাবাদ থেকে হাতবদল হয়ে মালদার নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এরপরই মালদা পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শিশু সুরক্ষা কমিশনের কর্তারা। তৈরি হয় একটি স্পেশাল সার্চ কমিটি। এইদিন ইংরেজবাজার মহিলা থানার এবং ইংরেজবাজার থানার উচ্চপদস্থ কর্তারা শিশু সুরক্ষা কমিশনের কর্তাদের নিয়ে স্পেশাল অভিযান চালায় নিষিদ্ধ পল্লীতে। সেখান থেকেই ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় ১৫ বছর বয়সী ওই নাবালিকার বাড়ি বিহারের বেগুসরাই এলাকায়। নিষিদ্ধপল্লীতে নারী পাচার চক্র যে সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে অসহায় গরীব ঘরের নাবালিকা মেয়েদের নিয়ে সেখানে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে তা পুলিশি অভিযানে এদিন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।এই নারী পাচার চক্রের পেছনে কে বা যুক্ত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।