মুসলিম হওয়ায় গর্ভবতী মহিলাকে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ,পথে অ্যাম্বুল্যান্সের প্রসবের পর মৃত্যু সদ্যোজাতের

1923

ওয়েব ডেস্ক, ৫ এপ্রিলঃ মুসলিম হওয়ায় একজন গর্ভবতী মহিলাকে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ উঠলো রাজস্থানের একটি সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যেই সন্তান প্রসব করেন ওই মহিলা। তবে শিশুটি বাঁচেনি। ওই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ওই গর্ভবতী মহিলার স্বামী ইরফান খান জানিয়েছেন, প্রথমে স্ত্রীকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন সিকরির একটি হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁদের ভরতপুর মহিলা হাসপাতালে যেতে বলা হয়। অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর তাঁরা মুসলিম বুঝতে পেরেই ডাক্তাররা ইরফানকে বলেন তাঁর স্ত্রীকে জয়পুরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কোনও উপায় না দেখে অ্যাম্বুল্যান্সে স্ত্রীকে নিয়ে জয়পুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন ওই ব্যক্তি। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় নি। যাওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সেই সন্তান প্রসব করেন ওই বধূ। গাড়িতেই মৃত্যু হয় সদ্যোজাতের। এরপরই সন্তানের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় তোলেন ইরফান।

ভরপুর মহিলা হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ রূপেন্দ্র ঝা জানিয়েছেন, অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার কারণেই ওই বধূকে জয়পুরে পাঠানো হয়েছিল। যদিও এর পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না তা জানা নেই বলেই দাবি তাঁর। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় রাজস্থান সরকারের অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

রাজ্যেতর পর্যটন মন্ত্রী বিশ্বেন্দ্র সিং যিনি বর্তমানে ভরতপুরের এই সরকারি হাসপাতালের ওবিএস এবং গাইনো বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, নিজের ট্যু ইটারে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, “ভরতপুরের জানানা হাসপাতালে একজন মুসলিম গর্ভবতী মহিলার চিকিৎসা করতে অস্বীকার করা হয়েছিল এবং ধর্মের কারণে তাঁকে জয়পুরে যেতে বলা হয়েছিল। ভরতপুরের বিধায়ক রাজ্যেলর স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ভরতপুর হাসপাতালেরই এই অবস্থা। লজ্জাজনক।”

মন্ত্রী আরো জানিয়েছেন,”এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। এটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং সরকার এই বিষয়গুলিতে অত্য ন্ত সংবেদনশীল।” যেই ডাক্তার ওই মহিলাকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেছিলেন তাঁর নাম মনীত ওয়ালিয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

এবিষয়ে ভরতপুরের ওই হাসপাতালের ডাক্তারদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। মুসলিমদের সঙ্গে এই আচরণ পরিবর্তন করতে অবিলম্বে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও দাবি তাঁর।