‘নিরীহ’ ছাত্রকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রতিবাদে বিষ্ণুপুর কেজি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বিক্ষোভ ছাত্র ছাত্রীদের

9

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ বিশ্বকর্মা পুজোর অনুষ্ঠানে ছাত্রদের দুই পক্ষের হাতাহাতিকে কেন্দ্র করে দু’জন ‘নিরীহ’ ছাত্রকে দোষী সাব্যস্ত করার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর কেজি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের একাংশ। সোমবার কলেজ ক্যাম্পাসে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে দাবী অবস্থানে বসেন।

এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন দু’দল ছাত্রের উত্তপ্ত বাক্ বিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল স্বীকার করে আন্দোলনকারীদের দাবী। ওই ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের না করে সন্দেহের বশবর্ত্তী হয়ে দু’জন নিরীহ ছাত্রকে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। যারা ঐ ঘটনায় কোনভাবেই যুক্ত নয়।

আন্দোলনকারী সন্তু দে বলেন, ৪ জন শিক্ষক সহ ২৪ জনের কমিটি বিশ্বকর্মা পুজো ও অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিল। রাতে অনুষ্ঠান চলাকিলীন ছাত্রদের দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও হাতাহাতি হয়। পরের দিন কলেজ কর্ত্তৃপক্ষ এবিষয়ে আলোচনার জন্য ডাকলেও তাদের কোন কথা শোনা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাদের কোন কথা শুনেই শুধুমাত্র সন্দেহের বশে দুই ছাত্রকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 ছাত্রী অন্বেষা সিংহের কথায়, পুজো পরিচালন কমিটিতে থাকা দু’জন ছাত্রকে কলেজ কর্ত্তৃপক্ষ সন্দেহের বশে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, দু’বছরের জন্য বরখাস্ত, কলেজ থেকে বিতাড়ন ও ক্যাম্পাসিং এ বসতে নাও দেওয়া হতে পারে। এরপরেও যদি সংশ্লিষ্ট ছাত্রের পরিবারের লোক এসে এধরণের ঘটনা আর হবেনা জানিয়ে ‘ক্ষমা চান’ তবে শাস্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এই বিষয়টি তারা মানছেন না বলে তিনি জানান।

কলেজে সরকারী সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন চেয়ারের উপর উঠে কেউ কেউ নাচ ঈরছিল, সেকারণে কয়েকটি চেয়ার ভেঙ্গে থাকতে পারে। এর বেশী কোন ক্ষয় ক্ষতি হয়নি। নিরীহ, নির্দোষ ছাত্রদের শাস্তি মুকুব সহ অন্যান্য দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান আন্দোলন চলবে বলে ছাত্র ছাত্রীরা জানিয়েছে।

এবিষয়ে বিষ্ণুপুর কেজি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঐ দিন রাতে ছাত্রদের হাতে দু’জন কলেজ কর্মী আহত হন। ঐ ঘটনায় দু’জন ছাত্রকে চিহ্নিত করে শাস্তির কথা বলা হয়েছিল। ওরা তা মানতে চায়নি, এমনকি দোষীদের চিহ্নিতকরণের কাজেও তারা সহযোগীতা করছেনা বলে তিনি দাবী করেন।

ছাত্রদের তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়েছিল দাবী করে তিনি বলেন, ঐ দুই ছাত্রকে ‘ক্লিনচিট’ না দিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে কোন তথ্য উদ্ধার করতে না পারায় উপস্থিত শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।