কোচবিহারে চাপমানি ফেরতের দাবিতে বিজেপি নেতার বাড়িতে সামনে বিক্ষোভ তৃণমূলের

2230

দেওয়ানহাট, ১৭ অক্টোবরঃ ব্লাকমানি নিয়ে আন্দোলন কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধোপাধ্যায়। সেই আন্দোলন নিয়ে তৃণমূল কতটা এগোতে পেরেছে তা স্পষ্ট জানা না গেলেও, এবার চাপমানি ফেরতের আন্দোলনে নামল তৃনমূল। বৃহস্পতিবার কোচবিহার ১ নং ব্লকের দেওয়ানহাট কলেজ সংলগ্ন-বলরামপুর রোড এলাকায় বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে চাপমানি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় তৃনমূল কংগ্রেস।

অভিযোগ, লোকসভা ভোটের বিজেপির জয়লাভ করার পর দেওয়ানহাট এলাকায় অনেক তৃনমূল কংগ্রেস কর্মী ও সাধারণ মানুষকে চাপ দিয়ে ওই এলাকা থেকে প্রায় ১০-১২ লক্ষ টাকা আদায় করছে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। যদিও ওই আদায়কৃত টাকাকেই চাপমানি বলে অবিহিত করেছেন তৃনমূল কংগ্রেস।

সেই টাকা ফেরতের দাবিতে দেওয়ানহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপির নেতা শুভাশিস চৌধুরীর বাড়ির সামনে সেই চাপমানি ফেরতের দাবিতে তৃনমূল কংগ্রেস কর্মী ও সাধারন মানুষ বিক্ষোভ দেখান। ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পরে পুলিশের আশ্বাসে ওই বিক্ষোভ তুলে নেয় তৃনমূল কর্মী সমর্থকরা। এদিনের ওই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন দেওয়ানহাট অঞ্চলের তৃনমূল কংগ্রেসের নেতা তাপস কুমার দে, রাজিব হোসেন, দুলাল চন্দ্র, সোহেল রানা সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।    

এদিন এবিষয়ে দেওয়ানহাট অঞ্চলের তৃনমূল কংগ্রেসের নেতা তাপস কুমার দে বলেন, “লোকসভা ভোটে বিজেপি জয়লাভ করার পর দেওয়ানহাট এলাকায় থেকে বিভিন্ন ভাবে সাধারন মানুষ ও তৃনমূল কর্মীদের কাছ থেকে প্রায় ১০-১২ লক্ষ টাকা চাপ দিয়ে টাকা তুলেছে বিজেপি শুভাশিস চৌধুরীর নেতৃত্বে। শুধু তাই নয় এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি ঘর ভেঙ্গে এলাকার ছাড়া করেছে বিজেপি নেতারা। তাই আজ যাদের কাছ থেকে চাপমানি নিয়ে ওই বিজেপি নেতার তারা সকলে এসেছে ওই বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে। সেখানে চাপ মানি ফেরতের দাবিতে আমরা বিক্ষোভ দেখায়। তিনি আমাদের আসার খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। ওই বিজেপি নেতা যদি আমাদের আছে যে চাপমানি নিয়েছে তা অতি সত্বর ফেরত দিতে হবে। তা নাহলে আমরা আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”

এবিষয়ে স্থানীয় তৃনমূল কর্মী আফজাল মিঞা বলেন, “আমি বেঙ্গালোরে কাজ করি। লোকসভা নির্বাচনের সময় সেখান থেকে কাজ করে টাকা পয়সা নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছি। তৃনমূলকে ভোট দিয়েছি বলে তারা আমাকে টাকার জন্য চাপ দেয়। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে সেদিন রাতে গিয়ে আমার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় বিজেপি কর্মীরা।”

যদিও এবিষয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপি নেতা শুভাশিস চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তৃনমূলের স্থানীয়রা নেতারা সাধারন মানুষের কাছে টাকা-পয়সা বা কাটমানি নিয়েছেন। তারাই এখন সু-কৌশলে বিজেপির দিকে ঘুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মানুষ এটা বুঝতে পারছেন। তৃনমূলের এই রাজনীতি সাধারন কাছে গুরুত্বহীন। আমার গায়ে কালি ছিটিয়ে প্রচারে আসার কৌশল নিয়েছে তৃনমূলের স্থানীয় নেতারা।”

বিক্ষোভরত তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা

প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারে দুই ফুলের গণ্ডগোল লেগেই থাকত। ভোটের পর বিজেপির ভাল ফলের জেরে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের মনোবল যেন একেবারে তলানিতে। উত্তরবঙ্গের আটটি লোকসভা আসনই গিয়েছে বিজেপির দখলে। শাসক তৃণমূলের অভিযোগ, অনেক জায়গাতেই আক্রমণ করছে বিজেপি। বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মী সমর্থকদের থেকে চাপ দিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। ব্ল্যাকমানির পর এবার ‘চাপমানি’ তাদের কর্মী সমর্থকদের থেকে চাপ দিয়ে যে টাকা নেওয়া হয়েছে তা আদায় করা হবে। তাকেই তৃণমূলের তরফে চাপমানি বলা হচ্ছে।

এর আগে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের চিলাখানা এলাকা থেকে চাপমানি নিয়ে পথে নামতে চলেছে তৃণমূল। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তারপর বৃহস্পতিবার নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের দেওয়ানহাট এলাকায় বিজেপি নেতার বাড়িতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা চাপমানি ফেরতে দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়।