পুজোর মুখেই খুলছে মালদার ইকো পার্ক

14

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মালদাঃ চারিদিকে সবুজ গালিচায় মোড়া চোখ জুড়োনো ল্যাণ্ডস্কেপ। এর মাঝে চিলড্রেন পার্ক, সিনিয়র সিটিজেন পার্ক, বাটার ফ্লাই পার্ক, অতিথিশালা। সুসজ্জিত জলাশয়ে থাকছে বোটিং, মাছ ধরার ব্যবস্থা। প্রকৃতি আর হরেক বিনোদনের মিশেলে নতুন পর্যটন কেন্দ্র মালদহের আদিনা ইকো পার্ক। যার দরজা খুলছে পুজোর মুখেই।

মালদহের ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ, আদিনা ফরেষ্ট বরাবরই পর্যটকদের পছন্দের জায়গা। সরকারি হিসেবে, বছরে দুই থেকে আড়াই লক্ষ পর্যটক আসেন এখানে। এবার আদিনার আকর্ষন দ্বিগুন হতে চলেছে নতুন ইকো পার্কের সৌজন্যে।

ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদের গা ঘেঁষে ৪৮ বিঘা জমির উপর দুই বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে এই আদিনা ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র। যার মনোরম প্রাকৃতিক উপাদন দেখে চোখ জুড়তে বাধ্য। মালদহের গাজোলের পাণ্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে আদিনা ইকো পার্ক। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর আর ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে এখানে গড়ে উঠেছে ইকো পার্ক। দুই বছর আগেও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে আগাছার জঙ্গল হয়ে উঠেছিল এই সরকারি খাস জমি।

২০১৭ সাল থেকে এখানে শুরু হয় ইকো পার্ক তৈরীর কাজ। জঙ্গল পরিস্কার করে, সীমানা প্রাচীর তৈরী, কৃত্রিম ঘাস বসিয়ে, রকমারি গাছ লাগিয়ে, পুকুর সংস্কার সব মিলিয়ে এখন প্রকৃতি পর্যটনের আদর্শ কেন্দ্র আদিনা ইকো পার্ক। পুজোর সময় পর্যটন প্রিয় বাঙালির চাই নতুন ডেষ্টিনেশন। ঘরের কাছে বেড়ানোর নতুন জায়গা। সেই চাহিদা পুরন করতে তৈরী আদিনা ইকো পার্ক। আদিনা ফরেষ্ট, আদিনা মসজিদ আর ইকো পার্ককে জুড়ে পর্যটন সার্কিট অন্য মাত্রা পাবে। আদিনা মসজিদে ইতিমধ্যেই বসেছে লাইট এণ্ড লাউণ্ড।

 পুজোর আগেই তা চালু করতে পুরাতত্ব বিভাগের অনুমতি চেয়েছে রাজ্য সরকার। পর্যটকরা আদিনায় এলে ইকো পার্কের ভিতরে অতিথি শালায় থাকতে পারবেন। এখানে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, ক্যাফে়টেরিয়া আর সুস্বাদু খাবারও মিলবে। সব মিলিয়ে মন জুড়বে পর্যটকদের। আদিনার ইকো পার্ক যে শুধু পর্যকটদের মন ভরাবে তাই নয়। একে কেন্দ্র থাকছে নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ। যা নিয়ে আশাবাদী এলাকার বাসিন্দারা।