কুম্ভকর্ণ মা-বাবা,শিশুর দেহ মিলল খালে

407

ওয়েব ডেস্ক, ১ ফেব্রুয়ারিঃ এ যেন কুম্ভ কর্ণের ঘুম! ঘুম কাতুরে মা-বাবার মাঝেই শুয়ে ছিল মাস ছয়েকের শিশু। মা বাবার মাঝে থাকলেও সেই শিশুকে রক্ষা করতে পারল না তারা। তাঁদের ঘুমের মধ্যেই ওই শিশুকে নিয়ে চম্পট দেয় এক দুষ্কৃতী। পরে ওই শিশুর দেহ মিলল খালের ধারে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার আমতার বসন্তপুর এলাকায়। যদিও ঘটনার তদন্তে নেমে ৫ ঘণ্টার মধ্যে এক সন্দেহ ভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আমতা থানার পুলিশ। 

শুক্রবার রাতে বাবা-মায়ের মাঝে শুয়ে রাতে ঘুমিয়েছিল ৬মাসের শিশুটি। ভোররাতে ঘুম ভাঙ্গতে মা দেখে পাশে শিশু নেই। কোথায় গেল ৬মাসের দুধের শিশুটি? এরপরেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে প্রতিবেশী ও পরিজনদের নিয়ে এলাকা জুড়ে শুরু হয় তল্লাশি। এরপর ঘন্টা তিনেকের চেষ্টায় গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে চলা খাল থেকে উদ্ধার হয় শিশুর দেহ। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এলাকার মানুষেরা দোষীকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরে আমতা-বড়গাছিয়া রোড অবরোধ করা হয়।

খবর পেয়ে আমতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানাতে থাকে এলাকার মানুষেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এলে, এলাকাবাসীর সাথে বচসা শুরু হয়।পরে ঘটনায় তদন্তে নেমে এক রাজমিস্ত্রীকে আটক করে জেরা চালানো হচ্ছে।             

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতা থানার বসন্তপুর আলতারা মহিষপাড়া গ্রামের সঞ্জয় মালিক ও তাঁর স্ত্রী দোলন মালিক তাঁদের শিশুপুত্রকে নিয়ে ঘুমাতে বিছানায় যান। শিশুটির বয়স হবে ৬মাস। রাতের খাবার খাইয়ে শিশুকে নিয়ে ঘুমোতে যান। কিন্তু শনিবার ভোররাতে বিছানায় শিশুটির খোঁজ না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন তারা। পরে ওই শিশুর দেহ মেলে একটি খালের ধারে। সেখান থেকে রাজমিস্ত্রীর একটি ব্যাগও উদ্ধার হয়। ওই ব্যাগের সূত্র ধরে সেই রাজমিস্ত্রীর খোঁজ মেলে। মনে করা হচ্ছে চুরির উদ্দেশ্যে এসে শিশুটিকে তুলে নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। এরপর ধরা পড়বার ভয়ে খালের ধারেই শিশুটিকে ফেলে দিয়ে যায়। তবে সমস্তটাই তদন্তে উঠে আসবে।

আমতা থানার ওসি টিম্পু দাস জানান, শিশুটির দেহ খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যাগটি মুর্শিদাবাদের এক রাজমিস্ত্রির। তাঁকেও আটক করা হয়েছে। ও জানিয়েছে ব্যাগটি চুরি হয়েছে। সমস্তটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।