ফের খারিজ রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আর্জি

35

ওয়েব ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বরঃ ফের ধাক্কা খেলেন রাজীব কুমার। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের দায়ের করা আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আলিপুর আদালত। শনিবার বিকেলেই শেষ হয় শুনানি। ফলে এবার রাজীবকে গ্রেফতার করতে কার্যত আর কোনও বাঁধা রইল না সিবিআইয়ের।

এদিন মামলার শুনানির সময় রাজীবের আগাম জামিনের আর্জির প্রবল বিরোধিতা করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, রাজীব কুমার পলাতক। তদন্তে সহযোগিতা করছেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে রাজীব আগাম জামিন পেলে তদন্ত প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দু’তরফের বক্তব্য শোনার পরে রাজ্য পুলিশের এডিজি (সিআইডি)-র আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।

সারদাকাণ্ড সামনে আসার পর রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। ওই দলের তদন্তেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিধাননগরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের। এই মামলার তদন্তের স্বার্থে রাজীব কুমারকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিবিআই। তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও আইনজ্ঞদের একাংশের অনুমান। এদিকে সম্ভাব্য গ্রেফতারি এড়াতে রাজীব কুমারও মরিয়া। যে কারণে আগাম জামিনের আরজি জানিয়ে আলিপুর আদালতে আবেদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, রাজীব কুমারকে গ্রেফতারে কোনও বাধা নেই বলে বৃহস্পতিবারই জানিয়ে দিয়েছে আলিপুর আদালত। আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে রাজীবের নামে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছিল সিবিআই। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সিবিআই ও রাজীবের আইনজীবীর সওয়াল-জবাব শোনার পর ঘণ্টা পাঁচেক রায়দান স্থগিত করার পর আদালত জানিয়ে দেয়, কলকাতার প্রাক্তন নগরপালকে সরাসরি গ্রেফতার করতে পারবে সিবিআই। এজন্য পরোয়ানা জারির দরকার নেই।

গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছেন সিবিআই আধিকারিকেরা। পাশাপাশি, রাজীবের উত্তরপ্রদেশের বাড়ি, অফিস, কলকাতার বাড়িতেও একাধিকবার হানা দেয় সিবিআই। শনিবার রাজীবের স্ত্রী, ড্রাইভার, ট্রাভেল এজেন্ট, নিরাপত্তারক্ষীদেরও দীর্ঘক্ষণ জেরা করে সিবিআই। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই জায়গাগুলিতে খোঁজ চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সফলতা আসবে বলেই আশা। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি সিবিআই-এর তৃতীয় চিঠির জবাব দেননি। ফলে রাজীবের খোঁজ পাওয়ার ব্যাপারে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটেই রয়েছে সিবিআই। এখন দেখার শনিবার আলিপুর আদালতে এই রায়ের পর কতটা সুবিধা করতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা